শরতের আগমনে 'শরৎ শুভ্রমে' উচ্ছ্বসিত যবিপ্রবি 

যবিপ্রবি
  © টিবিএম ফটো

শরৎকাল'কে উৎযাপন করতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠান 'শরৎ শুভ্রম'। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আল্পনা আঁকা, ঘুড়ি উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শরৎ শুভ্রম পালিত হয়েছে। ব্যতিক্রমধর্মী এ অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন 'জলতরঙ্গ'।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর)  সকাল ৯:০০ আল্পনা উন্মোচন করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। তারপর ধারাবাহিকভাবে ফুচকা স্টল, ফটবুথ ওপেনিং, ঘুড়ি উৎসব, গেমস প্রভৃতি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যায় যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড মোঃ আনোয়ার হোসেন 'শুভ্র শুভ্রম'র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। 

এসময় যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, 'আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি আমার ছাত্ররা এতো সুন্দর একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে। সারাদিন পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনকে গভীরভাবে চিনতে হলে এ ধরণের সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামগুলো জরুরী। শরৎ শুভ্রম আয়োজন করায় আমি 'জলতরঙ্গ'কে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তাদের সামনের দিনগুলো যেন আরও সাফল্যমণ্ডিত হয়। আশা রাখছি তারা যেন শিল্প ও সাহিত্যের জগতে আরো অগ্রগামী করতে পারে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমরাও প্রমাণ করতে পারি যে আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও আমরা শুধুমাত্র ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করিনা পাশাপাশি মানবিক গুণাবলী অর্জন করার জন্য আমরা বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবেও কাজ করি।'

শরৎ শুভ্রমকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করে উৎসবমুখর আমেজ। সেই অনুভূতি ব্যক্ত করে জলতরঙ্গের চিত্রশিল্পী মো: রাফি বলেন, বর্ষার শেষে শরৎকে বর্ণিল আয়োজনে বরণ করে নিতে আমাদের জলতরঙ্গের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আলপনা, ঘুড়ি উৎসব, ফুড কর্ণার, গেমস সহ অভিনব এক সংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজনের চেষ্টা করেছি। ক্যাম্পাসে সবাইকে শাড়ি পাঞ্জাবিতে দেখে বেশ ভালোই লাগছে৷ এর আগে অডিয়েন্স হিসেবে ছিলাম, এখন আয়োজক হিসেবে কাজ করে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতার হলো। বৃষ্টির চ্যালেন্জ মোকাবিলা করে আলপনা করা ছিলো এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।'

উৎসবমুখর পরিবেশ নিয়ে এপিপিটি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল আহাদ সৈকত বলেন, এক যুগ পেরানো যবিপ্রবিতে প্রথম শরৎ উৎসব পালন হচ্ছে। সত্যিকার অর্থে খুবই আনন্দের বিষয়। এই শরতের বিকেলে আলপনায় সেজেছে বিশ্ববিদ্যালয়; একটা অপূর্ব সৌন্দর্যবর্ধন ক্যাম্পাসের৷ বৃষ্টি কিছুটা শঙ্কা তৈরি করলেও অবশেষে অনুষ্ঠান অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এমন অনুষ্ঠানগুলো আমাদেরকে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে আগলিয়ে রাখে। আয়োজক জলতরঙ্গকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও শুভকামনা। এমন অসাধারণ উদ্যোগগুলো তারা ক্রমাগত চালিয়ে যেতে থাক।

অনুভূতি প্রকাশ করে এফএমবি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মৈত্রী মল্লিক বলেন, শরৎ কে বরণ করে নিতে আয়োজিত শরৎ শুভ্রম অনুষ্ঠানটি অসাধারণ ছিল। এমন আয়োজন আমাদের কে প্রাণবন্ত করে তুলে। অনুষ্ঠান নিয়ে অনেক আগ্রহ ছিল বৃষ্টি সেই আগ্রহের যায়গা কমিয়ে দিলেও সন্ধ্যা থেকে ক্যাম্পাস কে ভালো করে উপভোগ করেছি। বিকালের দিকের আল্পনার সৌন্দর্য ও সন্ধায় পাঞ্জাবি শাড়ির সৌন্দর্য ক্যাম্পাস কে নতুন রুপ দিয়েছে। এমন আয়োজন মাঝে মধ্যেই প্রয়োজন বিষন্নতা কাটানোর জন্য হলেও৷


মন্তব্য