বর্ণিল আয়োজনে যবিপ্রবির জন্মদিন পালিত

যবিপ্রবি
  © সংগৃহীত

বর্ণিল পথ আল্পনা, কেক কাটা, পিঠা উৎসব, গবেষণা প্রকল্প প্রদর্শনী, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সপ্তদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। তবে সপ্তদশ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয় বুধবার দিবাগত রাত ১২.০১ মিনিটে আতশবাজি ও ফানুশ উড়ানোর মধ্য দিয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকাল ১০.১৫ মিনিটে প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা ও যবিপ্রবির পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। সকাল ১০.২৫ মিনিটে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকস্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সকাল ১০.৩০ মিনিটে প্রধান ফটক থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। স্লোগান, বাদ্যযন্ত্রের তালে নেচে-গেয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করে। শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কেক কাটা হয়। এরপরে ১০.৪৫ মিনিটে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে পিঠা উৎসব ও গবেষণা প্রকল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন।

উদ্বোধন শেষে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনসহ আগত অতিথিরা বিভিন্ন বিভাগ ও ল্যাবের গবেষণা প্রকল্প প্রদর্শনী, পিঠা উৎসবের স্টল ও পথ আল্পনাসমূহ পরিদর্শন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬টি বিভাগ ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ তাদের পাঠ্যক্রমের থিম অনুযায়ী পিঠা স্টলের বাহারী নামকরণ করে। স্টলগুলোতে নানা ধরণ, বাহারী আকৃতি ও ঋতু বৈচিত্র অনুযায়ী সুস্বাদু পিঠার পসরা দেখে সবাই চমৎকৃত হন। বিভিন্ন বিভাগ ও গবেষণাগার স্মার্ট ওয়েস্টবিন, সেইফ রেইলগেট, স্বল্পমূল্যে তৈরিকৃত সোলার ড্রাইয়ার, খাদ্য সংরক্ষণ প্রক্রিয়া, মৎস্য সংরক্ষণ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্রোবায়োটিক সংক্রান্ত গবেষণা, টেক্সটাইলের তৈরিকৃত পণ্যসামাগ্রী, প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন সংক্রান্ত গবেষণা প্রকল্প প্রদর্শন করে।    

দুপুর সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিজ্ঞান ও গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞান পাঠের পাশাপাশি তোমাদের দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলেই তোমরা মানুষের মতো মানুষ হতে পারবে। ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মনা হতে হবে, দেশের সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরতে হবে, তাহলেই তোমরা আলোকিত মানুষ হতে পারবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদের পরিশ্রমী হতে হবে। নতুন কিছু উদ্ভাবন করলেই হবে না, জনগণের কাছে তা পৌঁছায়ে দিতে হবে। যাতে এ দেশের মানুষের কল্যাণ হয়।’

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনার ও আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান, ডিনস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. কামরুল ইসলাম, কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হক প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, দপ্তর প্রধানবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উন্নয়ন, অর্জন এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা’ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুনিবুর রহমান।

গ্লাস হাউস এবং যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবন উদ্বোধন: জৈব প্রযুক্তি সংক্রান্ত গবেষণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য দুপুরে যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আধুনাকি সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি গ্লাস হাউস উদ্বোধন করা হয়েছে। আধুনিক এ ল্যাবটি উদ্বোধন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ আরও উন্নত মানের গবেষণা করতে পারবে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের অদূরে যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন একটি ভবন উদ্বোধন করেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। এছাড়া স্কুলের অটোমেশন সিস্টেমও উদ্বোধন করা হয়। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে আধুনিক জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী মৌজায় ৩৫ একর জায়গা জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি অনুষদের অধীনে ২৬টি বিভাগ রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে প্রায় ৬ হাজার ২১৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকসহ মোট ৩৪৮ জন শিক্ষক, বিভিন্ন গ্রেডের ১৬৪ জন কর্মকর্তা এবং ৩৩৮ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন।


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ