বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ গঠন শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো বললেন শিক্ষামন্ত্রী 

ক্যাম্পাস
বক্তব্য রাখছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী  © সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদের দাবি আদায়ে গঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রালয়ের কোনো দৃষ্টিভঙ্গি আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি নতুন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বায়ত্তশাসিত। আমাদের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি স্বায়ত্তশাসিত। সুতরাং এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। শিক্ষাবিদদের সাথে আলোচনা করবো, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সাথে যারা যুক্ত আছেন তাদের যে অভিমত সে বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিবেন। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রালয়ের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপমূলক কোন কাজ করার সুযোগ নেই।”

তবে এ বিষয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এটা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ ভালো হয়। সেটা কতটুকু পরিমাণে আবার অরাজকতা, অস্থীশীলতা সৃষ্টি করতে পারে সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিবে। সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজনে, নেতৃত্ব দেয়ার প্রয়োজনে, সংসদের যে কার্যকারিতা, সংসদ সেটাতে আরো বেশি ভূমিকা নেয়া, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ- সেগুলো তাদের দক্ষতার সাথে সম্পর্কযুক্ত। তারা সৃষ্টিশীল কাজ করবে সেটা তাদের পড়াশোনার সাথে সম্পর্কিত।”

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য লনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিজিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত চা-চক্রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নতুন শিক্ষাক্রম বিষয়ে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, “শিক্ষাক্রম তৈরি করার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ ইনক্লুড ( অংশগ্রহণ) আছে। আমরা শুধুমাত্র আইইআর-এর না বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত , সংযুক্তি নিয়েছি। এখন অবশ্য কিছু অপরাজনৈতিক দল সংযুক্ত হয়ে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। আমরা বলেছি সকলের সাথে আলোচনা করবো, সবার মতামত নিবো; সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। সবার মতামত নিয়ে সংবেদনশীলতার যে জায়গাটা...কারো কারো ক্ষেত্রে একেক সমাজে সেটা একেক ধরনের সেই মাপটা হয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য লনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিজিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত চা-চক্রে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

“যারা অতিমাত্রায় সংবেদনশীল তারা দুঃখিত হোন আর যারা কম সংবেদনশীল তাদের বিষয়টি শুধু প্রাধান্য পাবে সেটা অবশ্যই আমরা চাই না। সমতা অবশ্যই থাকবে, সেই লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যেই কাজ করছি। আমরা আশা করছি যেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধান হবে,” বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “ফলাফলের উপরে আটকে না থেকে, ফলাফলের বাইরেও যে একটা সমাজ আছে, নিজেকে গড়ে তোলার জন্য সেই সার্বজনীন মানুষ হিসেবে যাতে গড়ে তুলতে পারি... সমাজের সহনশীলতা, নারী-পুরুষের অধিকারের প্রশ্নে সমতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ- এই মূল্যবোধগুলো যাতে হারিয়ে না যায় সেভাবে আমাদের শিক্ষাবিদগণ তাদেরকে পরিচালিত করবেন।”

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু বইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এই বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার বাইরেও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদান এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য তৈরি করে। নবীন কৃতি শিক্ষার্থী এবং প্রবীণ ইমেরিটাস প্রফেসরদের অংশগ্রহণে চা-চক্রের মাধ্যমে এভাবে সংবর্ধনা দেয়ার যাত্রা হয়েছিলো শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে কৃতি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেয়ার উদ্দেশ্যে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই মিলনমেলা।” 

“এখান থেকে কর্মজীবনে তারা আত্নপ্রত্যায়ী হওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করবে। একইসাথে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতির রূপরেখা প্রণয়নে শিক্ষামন্ত্রীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি,” যোগ করেন উপাচার্য।

চা-চক্রে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়া, অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমেরিটাস অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন। 

এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক ড. সামসাদ মর্তুজা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।


মন্তব্য