‘আপনি কেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ভয় পান’ -জাবির সাবেক ভিসি

ক্যাম্পাস
  © সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সম্প্রতি সংঘটিত জঘন্যতম ঘটনার সাথে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট সিনেট সদস্যবৃন্দ। এ মানববন্ধনে জাবি সাবেক উপাচার্য ড. শরীফ এনামুল কবির বর্তমান উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি আমাদের (সিনেটর) ভোটে নির্বাচিত উপাচার্য। আপনি কেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ভয় পান।

আজ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের পাদদেশে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপাচার্য ড. শরীফ এনামুল কবির সহ অন্যান্য রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট সিনেট সদস্যবৃন্দ।এসময় তিনি যৌন নিপীড়কদের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা আজ এখানে ধর্ষণ ও গণরুমের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করতে এসেছি। আমরা চাই যারা ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের ফাঁসি দেওয়া হোক। হলে ২৫০০ নয়, খুঁজে দেখেন পাঁচ হাজার ছাত্র হলে অবস্থান করছে। অছাত্ররা হলে অবস্থান করে আর বৈধ শিক্ষার্থীরা মানবেতর জীবন যাপন করে। অবিলম্বে হল থেকে গণরুম উচ্ছেদ করতে হবে। হলের প্রাধ্যক্ষ, ওয়ার্ডেনদের হলে থাকতে হবে। হলে ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে যেন  ছেলে মেয়েরা ফিরে আসে সে ব্যবস্থা করতে হবে। হলের পাশের দোকান উচ্ছেদ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কেনো দোকানের টাকায় চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অটো রিকশা বন্ধ করা হোক।

তিনি গণরুম বিলুপ্তি প্রসঙ্গে বলেন, আপনি মনে রাখবেন পাঁচ দিন মানে পাঁচ দিনই, পাঁচ দিনের মধ্যেই এ গণরুম উচ্ছেদ করতে হবে । এরপরে যেন একজন অছাত্র, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, বহিরাগত যেন  আবাসিক হলে স্থান না পায়। ২১ টা হলের প্রভোস্ট একসঙ্গে যদি তাদের হলে অভিযান পরিচালনা করেন তাহলে কোন অবৈধ শিক্ষার্থীর সাহস নেই তাদের সামনে দাঁড়ানোর।

এসময় আরোও বক্তব্য রাখেন, ড.শামসুল আলম সেলিম, সাবিনা ইয়াসমিন,আশীশ কুমার মজুমদার প্রমুখ। 
উল্লেখ্য,  গতকাল শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে  ৯ টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ আবাসিক হলের ৩১৭ নং কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে কৌশলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ও মামুনুর রশীদ মামুন।


মন্তব্য