জবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্য:

অভিযুক্তদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করবো, না পারলে তদন্তের দুর্বলতা: তদন্ত কমিটি

জবি
  © সংগৃৃহীত

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তথ্য ও উপযুক্ত প্রমাণাদি আহ্বান করেছে। সেই সাথে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কিভাবে তথ্য পাওয়া যাবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

সোমবার (১৮ মার্চ) দুপুরে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের নির্দেশক্রমে এ্যাডভোকেট রঞ্জন কুমার দাস ডেপুটি রেজিস্ট্রার (আইন), উক্ত কমিটির সদস্য সচিবের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য ও উপযুক্ত প্রমাণাদি আহ্বানের কথা বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকা-এর আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব দ্বীন ইসলাম-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন পেশ করার জন্য ১৬/০৩/২০২৪ তারিখে জবি/প্রশা-৩২(৭)/২০০৭/২৯০ সংখ্যক স্মারকমূলে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে প্রকৃত ঘটনা বিষয়ে তথ্য ও উপযুক্ত প্রমাণাদি প্রয়োজন।

এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ২০ মার্চের মধ্যে গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ জাকির হোসেনের নিকট জমা প্রদান করে তদন্ত কার্যে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানান।

এনিয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ জাকির হোসেন বাংলাদেশ মোমেন্টসকে জানান, এখানে পক্ষ দুইটা আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো অভিযোগকারীর পক্ষে এবং অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার। অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে বা জেলখানায় রিচড করতে পারলে সাক্ষাতকার নেওয়া হবে। তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে।

তিনি অভিযুক্তদের তথ্য ও প্রমাণাদি নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি নিয়ে বলেন, আমরা চেষ্টা করবো এবং আমাদের চিন্তায় আছে এটা। যারা  দুইজন অ্যারেস্ট হ‌ওয়া আছে তাদের মতামত নেওয়ার চেষ্টা করবো। একান্তই না পারলে এটা আমাদের তদন্তের দুর্বলতা। উচিত ছিল পারিনি। এখন ওটা তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে না। অনুমতি চেয়ে আগানোর চেষ্টা করবো সেক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতা লাগতে পারে।

এনিয়ে আরো বলেন, আজকে আমরা বসেছি কালকে আবার বসবো। যতটা সহজ মনে হচ্ছে কিন্তু ক্ষেত্রটায় সংশ্লিষ্টতা অনেক। হল, প্রক্টর অফিস, বিভাগ, যারা জিডি করেছে তারাও সংশ্লিষ্ট। আমরা সাক্ষাৎকার নিচ্ছি এবং যতটুকু আগানো যায় সবোর্চ্চ চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য যে, গত ১৬ মার্চ রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের  ফাইরুজ অবন্তিকা নামে এক শিক্ষার্থী। সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মান সিদ্দিককে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ধারাবাহিক আন্দোলন। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


মন্তব্য