অসহায়দের পাশে ইফতার নিয়ে মাসব্যাপী রয়েছে 'নিঝুম'

ঢাবি
  © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় থাকেন অনেক অস্বচ্ছল, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষ। এদের মধ্যে আছে রিকশা চালক, ফুল বিক্রেতা, ভবঘুরে ও পথশিশু। খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করা এসব মানুষের জন্য মাসব্যাপী ইফতারের আয়োজন করেছে নোয়াখালী ছাত্রকল্যাণ পরিষদ (নিঝুম)। এছাড়াও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের কেউ তার সমস্যার কথা গোপনে জানালে তাকেও করা হয় সহায়তা।

পহেলা রমজান থেকে প্রতিদিন ইফতারের সময়ের পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে দাঁড়িয়ে ইফতার বিতরণ করে সংগঠনের নেত্রীবৃন্দরা। এছাড়াও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে তারা ইফতার বিতরণ করেন। 

সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ জানান, রমজানে গরিব মানুষের সহায়তা করার মাধ্যমে একটি আত্মিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও এই কাজটি ছোট হলেও দেখে অনেক মানুষ উৎসাহিত হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলেও তাদের বিশ্বাস। 

সংগঠনের সভাপতি আইনুল ইসলাম মাহবুব বলেন, অসহায়দের প্রতি সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করে বিপুল সওয়াব লাভের সর্বোত্তম সময় রমজান। অনেক গরিব-দুঃখী মানুষ আছেন, যারা সাহরি ও ইফতারে সামান্য খাবারও জোগাড় করতে হিমশিম খান। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজানে তাদের দুঃখটা খানিক বেড়ে যায়। এ ধরনের মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি কর্তব্য। সেই জন্য আমাদের সংগঠন থেকে আমাদের সিনিয়রদের সহযোগিতায় আমরা প্রতিদিন সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু রোজাদার ব্যক্তির মাঝে ইফতার বিতরণ করি। আমার এ উদ্যোগ নেওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমরা শিক্ষাজীবন থেকে যেন মানবিক কাজগুলো করতে আরও আগ্রহী ও উৎসাহিত হয়।

দফতর সম্পাদক ওমর ফারুক শুভ বলেন, রমজান মাস সংযমের মাস, আত্মশুদ্ধির মাস। রমজানকে ঘিরে আমাদের সমাজে নানা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সারাদিন রোজা রাখার পর গরিব অসহায় মানুষের সাথে ইফতার ভাগাভাগি করার ব্যপারটা আসলে অত্যন্ত ভাগ্যের এবং সাওয়াবের কাজ। এ সকল মানবতা এবং সহযোগিতা মুলক কাজে আমরা ছাত্রাবস্থা থেকে যদি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ  করি তাহলে ধীরে ধীরে তা সমাজের প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে পড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে চাওয়া  থেকে আমাদের এই মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন।


মন্তব্য