দেড় বছর আগে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক বহিষ্কার চেয়ারম্যান অব্যহতি 

জবি
  © ফাইল ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থীর দেড় বছর আগে করা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষকে সাময়িক বহিষ্কার এবং চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) বিকেলে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিন্ডিকেট সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রভাষক আবু শাহেদ ইমনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীকে অসহযোগিতা করায় বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুনায়েদ আহমদ হালিমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

এনিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, 'জরুরী ভিত্তিতে আজকে আমাদের ৯৪ তম সিন্ডিকেট বসেছে। নৈতিক স্থালন  হলে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী  সিন্ডিকেটের সকল সদস্যদের সম্মতিক্রমে আমরা ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষক আবু শাহেদ ইমনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছি। 

উপাচার্য বিভাগের চেয়ারম্যান নিয়ে বলেন, আর জুনায়েদ আহমদ হালিম একটা বিভাগের চেয়ারম্যান, তিনি নিরপেক্ষ থাকবেন। শিক্ষার্থী একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে সেভাবে ব্যাবস্থা নিবেন। আমরা দেখেছি তিনি প্রশাসনকে এবং শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করেননি। পরবর্তিতে সিন্ডিকেটের অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ সদস্যরা মনে করেছে তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রাখা উচিত হচ্ছেনা। এজন্য চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর শিক্ষক আবু শাহেদ ইমন নিকতনের ব্লক-এ এর দুই নম্বর রোডের ৮২ নম্বর বাসায় অবস্থিত ব্যক্তিগত অফিস কার্যালয়ে তাকে ডেকে ফ্রেন্ডশিপের প্রস্তাব দিয়ে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করেন বলে ভুক্তভোগী ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী ফারজানা মীম অভিযোগ করেন ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে। 

সম্প্রতি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় যৌন হয়রানি ও নানা নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই শিক্ষার্থী সোচ্চার হন। সেখানেই অবন্তিকার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে নিজের প্রসঙ্গও আসে। গণমাধ্যমে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

পরবর্তীতে নিরাপত্তার জন্য ডিবি কার্যালয়ে এবং বঙ্গভবনে যান এ শিক্ষার্থী। এরপর‌ই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে বিষয়টি নিয়ে।


মন্তব্য