চট্টগ্রামে জীববিজ্ঞান উৎসব উদযাপিত; তিন ক্যাটাগরিতে ১৭৭ জন বিজয়ী

চবি
  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পৃষ্ঠপোষকতায় 'প্রাণের মেলা কাজাখস্তানে' প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান উৎসব ও প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। জীববিজ্ঞান উৎসবটিতে চট্টগ্রামের ৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজার দুইশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন৷ শনিবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম নগরের সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে উৎসবের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়৷

সকাল নয়টা থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তীর সঞ্চালনায়  আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা জীববিজ্ঞানের নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এরপর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। 

আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান উৎসব-২৪ এর কো-অর্ডিনেটর মোরশেদুল ইসলাম রিফাত। আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান উৎসব-২৪ এর সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, আমরা বলে থাকি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠন করতে হবে৷ এটা কেন? কারণ আমাদের সমাজ এখনও কুসংস্কারে আবৃত। এই কুসংস্কার দূর করার জন্যই জীববিজ্ঞান। যত বেশি জীববিজ্ঞান সম্পর্কে জানবো, সমাজে কুসংস্কার ততবেশি কমবে। 

তিনি বলেন, এই শতাব্দী হলো জীববিজ্ঞানের শতাব্দী, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজির শতাব্দী। এজন্য জীববিজ্ঞানের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে৷ এই উৎসবের মাধ্যমে জীববিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের জানার পরিধি বাড়বে। সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। 

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান উৎসব-২৪ এর সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. লায়লা খালেদা উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োজন। জীববিজ্ঞান তো আরও বেশি প্রয়োজন। যারা আজকের জীববিজ্ঞান উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে অভিভাবকদের বিশেষ ধন্যবাদ।  

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মেরিন সিটি কলেজ এন্ড হাসপাতালের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. সুজাত পাল বলেন, মানব শরীরে অসংখ্য সেল রয়েছে। সেলগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করোনা প্রমাণ করেছে মানুষ কত অসহায়। সম্প্রতি দেখা গেছে যারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করবে; চাকরির বাজারে তারা ৪০% জায়গা দখল করবে৷ এই এআই এর সঙ্গে জীববিজ্ঞান জড়িত। খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জীববিজ্ঞান। জীববিজ্ঞান পড়ে যে শুধু ডাক্তার হবে ব্যাপারটা এমন নয়; এক্ষেত্রে অনেক সুযোগ রয়েছে। 

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. এ এম মাসুুদুল আজাদ চৌধুরী, সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর গণেশ চন্দ্র ত্রিপাঠি, মেরিন সিটি কলেজ এন্ড হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক্সের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. বাসনা রানী মুহুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের প্রাণরসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সায়েদা রুম্মান আক্তার সিদ্দিকী। আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহী হাসান চৌধুরী। 

প্রতিযোগিতায় তিন ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ১৭৭ জন বিজয়ী হয়েছে। পরবর্তীতে বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করবে।


মন্তব্য