হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের প্রথম বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

হাবিপ্রবি
  © টিবিএম

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা'র "স্মার্ট বাংলাদেশ" গড়ার প্রত্যয়ে ও জাতির পিতার আদর্শে লালিত ছাত্রসমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে স্মার্ট "জেনারেশন" এ রুপান্তরিত করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শাখা ছাত্রলীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে এক বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগ।

৩০ মে ( বৃহস্প্রতিবার) বিকেল ৪ টায় অডিটোরিয়াম-১ এ এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. এম. মাসুদ রানা মিঠু'র সঞ্চালনায় এবং সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন আকাশ এর সভাপতিত্বে উক্ত বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটিতে পদ প্রাপ্ত সকল সহ- সভাপতি , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক , সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

দীর্ঘ  ১৩ বছর পর গত ১৪ মে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। কমিটি হওয়ার পর দীর্ঘদীনের নেতৃত্বের সংকট কাটাতে এবং সাংগঠনিক অচলাবস্থা ভাঙতে নানা উদ্যেগ গ্রহণ করে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ। তারই ধারাবাহিকতায় এই বর্ধিত সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

সভায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। সভায় উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীবান্ধব করতে নানা দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো হলের ক্যান্টিনে খাবারের মান বৃদ্ধি এবং দাম কমানো, ক্রেডিট ফি কমানো, বাস সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং পূর্বের ন্যায় আধাঘন্টা পরপর বাস শিডিউল করা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফ্রি ওয়াইফাই এর ব্যবস্থা করা, লাইব্রেরি এবং টিএসসিতে সিট সংখ্যা বাড়ানো, প্রতিবছর হল ফিস্টের আয়োজন করা, বিভিন্ন অনুষদীয় ক্লাব এবং সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি করা, বিভিন্ন হলে সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় মেসভাড়া কমানো, নিয়মিত সমাবর্তনের আয়োজন করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এলামনাই গঠন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বাড়ানো। 

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া শোনার পাশাপাশি সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও পরিকল্পনা করা হয় উক্ত সভায়। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু বলেন, "দীর্ঘ ১৩ বছর পর কমিটি হওয়ায় আমরা সবাই আনন্দিত। আপনাদের অনেক দাবিদাওয়া আছে আমরা জানি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য রাজনীতি করে। আমরা সব শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে এসব সংকট সমাধান করে বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীবান্ধব করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। খুব শীঘ্রই প্রশাসনের সাথে বসে আমরা আমাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরবো এবং সমাধানের আহ্বান জানাবো।" তিনি আরও বলেন, "শুধুমাত্র ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জন্য নয় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর জন্য কাজ করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগ সবসময় বদ্ধপরিকর থাকবে।"

সভায় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর হোসেন আকাশ বলেন, "আমরা একটা বিষয়ে বদ্ধপরিকর, সকল শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সবসময় কাজ করতে চাই। আমাদের এখানে অনেকদিন কমিটি ছিলোনা। হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধৈর্য্যর পরিচয় দিয়েছে। আমাদের সাথে থেকে সহযোগিতা করুন। আশা করি আপনাদেরকে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারবো।"


মন্তব্য