জাহাঙ্গীরনগরে 'সৌন্দর্যের কবর ' রচনা হলো! 

জাবি
(জাবিতে) গাছ কাটার চিত্র  © টিবিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছপালা, লেক, বন্য - প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ পরিবেশের জন্য সারাদেশে বিশেষভাবে পরিচিতি। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের জন্য শুরু হয় যত্রতত্র গাছ কাটা, এবারও হয়নি তার ব্যতিক্রম। আজ ২ জুন  (সোমবার) সকাল থেকে গাছ কাটা শুরু হয়, বিষয়টিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌন্দর্যের কবর রচনা বলে আখ্যায়িত করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছেন, 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সৌন্দর্য ছিলো আজ তার কবর রচনা হয়েছে।' 

সরেজমিনে আজ সকালে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জন্য পূর্বের আল বেরুনী হলের এক্সটেনশন সংলগ্ন লেকের পাশে প্রায় দুই শতাধিক কলা ও মানবিকী অনুষদের জন্য এক্সটেনশন ভবন নির্মাণের জন্য নতুন প্রশাসনিক ভবনের পেছনে বনাঞ্চল সমৃদ্ধ এলাকায়ও প্রায় দুই শাতধিক গাছ কেঁটে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।  আরোও গাছ কাটার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

দুটি ভবনের নির্মাণ স্থানই লেকের পাশে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মেইন বার্ডস লেক ' নামে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে বিশ্ববিদ্যালয় জলাশয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় লেকটিকে‌ মেইন বার্ডস লেক নামেই শনাক্ত করা হয়। ৭.১৫ একর আয়তনের লেকটিকে ওই সভায় সংস্কারের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু ঐ স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে, নির্মাণকালীন সময়ে উৎপন্ন শব্দ ও বিশৃঙ্খলায় লেকটি আর পরিযায়ী পাখির জন্য বাসাযোগ্য থাকবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জলাশয় ব্যবস্থাপনা কমিটির এ সিদ্ধান্ত গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত হয় বলেও জানা গেছে। 

পরিবেশবিদদের মতে এই লেকটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীযায়ী পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ছিলো। কিন্তু লেকের দু'পাশে ভবন নির্মাণ করায় পাখিদের 'ফ্লাইট জোন ' নষ্ট হবে এবং সুদূর ভবিষ্যতে আর পরীযায়ী পাখিরা আসবে না বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষরোপণ ও গাছ কাটার বিষয়টি দেখভাল করেন রেজিস্ট্রার অফিসের এস্টেট শাখা। এ অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রায় ৩০০টি গাছ কাটার বিপরীতে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল ৪০০টি। পরের বছর ২০১৯ সালে দুই শতাধিক গাছ কাটার বিপরীতে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল তবে ২৫০টি। ২০২০ সালে ১৫০টি গাছ কাটার বিপরীতে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল ৩০০টি। ২০২১ সালে ৩০০টি গাছ কাটার বিপরীতে ৭০০টি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল। তবে ২০২২ সালে বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছিল ২০০টি তবে গাছ কাটার সংখ্যার সুস্পষ্ট তথ্য মেলেনি অফিসে। পরবর্তী বছর ২০২৩ সালে ২০০টি গাছ কাটার বিপরীতে গাছ রোপণ হয়েছিল ৫০০টি। ২০২৪ সালে এখনো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, তবে গাছ কাটা পড়েছে ২৫০টি। তবে কোথায় কোথায় গাছ লাগানো হয়েছে এই প্রশ্নের জবাব সুস্পষ্টভাবে দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতি কন্যা জাহাঙ্গীরনগর কে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছি। আমরা বারবার বলছি যে মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেবো না। কিন্ত প্রকৃতি খেঁকো প্রশাসন পরিবেশের ক্ষয় ক্ষতি তোয়াক্কা না করে ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে কাজে লাগিয়ে গাছ কাটার মহা উৎসবে মেতেছে। এর মধ্য দিয়ে জাহাঙ্গীরনগরের সৌন্দর্যের কবর রচনা হলো। 


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ