চবি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল

অব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের তীর হল প্রশাসনের দিকে, যা বলছেন প্রভোস্ট

চবি
(চবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল  © ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসনের বিষয়টি চিন্তা করে গতবছরের ৮ ই আগস্ট খুলে দেওয়া হয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল। কিন্তু মাত্র নয় মাসেই নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে হলটি। চরম লোকবল সংকটের পাশাপাশি আছে অপরিচ্ছন্ন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খাবারের সমস্যা। সংশ্লিষ্ট হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা জানান- হলের ক্লিনিং ব্যবস্থা খুব বাজে। পর্যাপ্ত সুইপার না থাকায় দুই- তিন সপ্তাহেও ওয়াশ রুম, কিচেন পরিষ্কার করা হয় না। খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করে। অন্যান্য হলের মতো নেই কোনো প্রার্থনা কক্ষ এবং ভালো মানের ক্যান্টিন। খাবারের জন্য একমাত্র ডায়নিংয়ের উপর নির্ভর করতে হয় যার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। রিডিং রুমের জায়গা স্বল্পতার কথাও উল্লেখ করেন তাঁরা। সম্প্রতি কমনরুমে (টিভিরুম) পড়াশোনা নিষিদ্ধ করে হল প্রশাসন একটি নোটিশ দিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রীরা।

৩১২ আসন বিশিষ্ট হলটির ৬০ শতাংশ আদিবাসী ও ৪০ শতাংশ সাধারণ ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ। সাধারণ ছাত্রীদের অভিযোগ তাদের রুম গুলোতে ধারন ক্ষমতার বেশি বেড স্থাপন করা হচ্ছে যার কারণে হলে থাকাটা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ছে।এই সামগ্রিক বিষয়ে অভিযোগ করে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া তো পাচ্ছেই না বরং অভিযোগ করলে ভয় ভীতি প্রদর্শন এবং সিট বাতিলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন কেউ কেউ।

হলের সার্বিক বিষয়ে চবির বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ডঃ উদিতি দাশ বাংলাদেশ মোমেন্টস কে বলেন- হলে লোকবলের অভাব কোনো সুইপার নেই। বিগত দশ মাসে ডায়নিংয়ের বাবুর্চি সহ মাত্র চার জন স্থায়ী ভাবে চাকরি পেয়েছে।বাদ বাকি যারা কাজ করছে সবাই ডেইলি বেসিসে। নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অবস্থান ও কমনরুমে পড়া নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন -হলটি যদিও ৩১২ জন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ বর্তমানে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছে। আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক ছাত্রী আমাকে রিকোয়েস্ট করে হাতে পায়ে ধরে তাদের থাকার জায়গা সমস্যা দেখিয়ে ডাবলার নিচ্ছে, অনেকে দীর্ঘদিন হলে থাকে না অথবা অন্য হলের শিক্ষার্থী কিন্তু এই হলে সিট দখল করে রেখেছে এই বিষয় গুলো দেখা হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা করার যেমন অধিকার আছে ঠিক তেমনি টিভি দেখা বা বিনোদের অধিকার ও রয়েছে। প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে কমনরুমে কেউ পড়বে কেউ টিভি দেখবে এই নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে তাই আমরা কমনরুমে পড়ার বিষয়টি নিষিদ্ধ করেছি।

হলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করলে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সিট বাতিলের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে হল প্রভোস্ট বলেন- আমি কাউকে হুমকি বা সিট বাতিল করেছি প্রমাণ করতে পারলে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দিব।

হলের অব্যবস্থাপনা গুলো নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা এই প্রশ্নে ডঃ উদিতি দাশ বলেন ইতিমধ্যে উপাচার্য মহোদয়ে কে হলের সমস্যা গুলো জানানো হয়েছে তিনি কাজ শুরু করেছেন হয়তো একটু সময় লাগছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষক মোহাম্মদ রোকন উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে প্রতিবেদক সহ সরেজমিনে হল পরিদর্শন করে হলের কিছু সমস্যা পরিলক্ষিত হয় এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এবং বড় সমস্যা হলো লোকবল সংকট।


মন্তব্য