অশ্লীল কাজে বাধা দেয়ায় শিক্ষার্থীর মাথা ফাটালেন ছাত্রলীগ নেতা

ঢাবি
ডানে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা   © সংগৃহীত

দিনদুপুরে রাস্তার পাশে অশ্লীল কাজ করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বায়েজীদ। এমন সময় ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের শিক্ষার্থী তৌফিকুর রহমান। অশ্লীল কর্মকাণ্ড তৌফিকের চোখে পড়ায় তাদের পরিচয় জানতে চান এবং দিনদুপুরে এরকম কাজ কেন করছেন এমন প্রশ্ন করায় তার ওপরে ক্ষেপে যান বায়েজীদ। এরপর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়া হয় তৌফিকের।

শনিবার (৮ জুন) বিকাল চারটায় ঘটনাটি ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলের সামনে।

আহত অবস্থায় তৌফিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চোখের ওপরের অংশ ফেটে যাওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় চারটি সেলাই দেন।

তৌফিক সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মোমেন্টসকে বলেন, তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে চুমু খাওয়াসহ বিভিন্ন অশ্লীল কর্মকাণ্ড করছিল। আমি কোচিং করায়ে আসছি, খুব ক্লান্ত ছিলাম। তাদের অশ্লীল কার্যক্রম দেখে আমি জাস্ট পরিচয় জানতে চাইছি। পরবর্তীতে তিনি (বায়েজীদ ) আমার উপর প্রচন্ড রেগে যান, যা তা বলা শুরু করেন। এরপর আমি ঝামেলা না বাড়িয়ে হলে চলে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার আমাকে ডাকতেছিল আর বলতেছিল, ‘এই তোর হলে যাচ্ছি আয় কি করবি।”

“তার এমন চিৎকার চেঁচামেচি সহ্য করতে না পারে পরে একজন জুনিয়রকে নিয়ে তার কাছে গেলাম; গিয়ে বললাম , ‘ভাই আপনার সমস্যা কি আপনি এভাবে যা তা ব্যবহার করতেছেন কেন?’ এরপর আমার ওই জুনিয়রের সাথে তার কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ করে সে ইট নিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।”

তৌফিক জানান, এই ঘটনার পর তার আর কোন সেন্স ছিলো না। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। “এরপর তার সাথে কি হয়েছে আমি জানি না,” বলেন তৌফিক।

তৌফিক ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী । তিনি মাস্টারদা সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে বায়েজীদ শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী।

এদিকে অশ্লীল কার্যক্রমের বিষয়টি অস্বীকার করেন বায়েজীদ। তিনি তার সাথে থাকা মেয়েকে তার ইনস্টিটিউটের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, “এরকম কিছু করি নাই। সে আমার বান্ধবী ছিলো।”

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বায়েজীদ বলেন, “আমার বান্ধবী নিয়ে আইইআর-এর সামনে দিয়ে হাঁটতেছিলাম এমন সময় সে এসে আমার পরিচয় জানতে চায়। আমি পরিচয় দেই, এরপর সে আমার সাথে তুই তুকারি ব্যবহার করা শুরু করে এবং সূর্য সেন হলের দিকে আমি যেতে পারবো না এরকম হুমকি দেয়।” 

“পরে আমি বান্ধবীসহ তার হলে সামনে গেলে সে পাঁচজন ছেলে নিয়ে এসে আমাকে ব্যাপক মারধর করে। এরপর আমি হলের বন্ধুদের খবর দেই। পরবর্তীতে ঘটনাটি মিটমাট করার জন্য আমি সূর্য সেন হল ক্যাফেটেরিয়ায় বসি কিন্তু সেখানেও তারা ২০-২৫ জন এসে আমার উপরে হামলা চালায়। ক্যাফেটেরিয়ার ভিতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে। সে সময় আমার পাঁচ সাতজন বন্ধু ছিলো,” বলেন বায়েজীদ।

এদিকে এ ঘটনায় বায়েজীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগামীকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাকসুদুর রহমানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিবেন‌ তৌফিকুর।

এ বিষয়ে প্রক্টর বলেন, “আমি ঘটনা জেনেছি। আগামীকাল তিনটায় দুইজনেই অফিসে ডাকা হয়েছে।”


মন্তব্য