ছাত্রীকে ফেল করানোর অভিযোগ চবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে: পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন

চবি
  © টিবিএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এক ছাত্রী পূর্ব আক্রোশের জেরে ফল পরিবর্তন করে একটি কোর্সে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফেইল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একই বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। গত ৫ জুন কোর্স টিচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ চেয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করেন ঐ শিক্ষার্থী। আবেদন পত্রে তিনি উল্লেখ করেন- আমি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের ৪র্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। গত ৪ জুন আমার ৩য় বর্ষের ফলাফল প্রকাশিত হয়। আমি একটি কোর্স ব্যতীত (Chem-3203) A+ থেকে A- মধ্যে পাই। কিন্তু Chem-3203 কোর্সে আমাকে F গ্রেড (ফেইল) দেওয়া হয়। আমার দেওয়া পরীক্ষার সাথে এই ফলাফল কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় কারণ এই পরীক্ষায় আমি পূর্ন নম্বরের উত্তর দিয়েছি। এমনকি আমার গত দুই বছরে সকল থিওরি কোর্সে A+ থেকে A- গ্রেডের মধ্যে পাই।

অভিযোগকারী আরো উল্লেখ করেন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে অযাচিত ভাবে মানসিক চাপ প্রয়োগ ও গভীর রাতে ফোন দিয়ে উত্যক্ত করার অভিযোগ দেন এবং তখন বিভাগের শিক্ষকরা আশ্বস্ত করেছিলেন এর প্রভাব ফলাফলে পড়বে না। কিন্তু ছাত্রীর অভিযোগ Chem-3202 এর কোর্স টিচার প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে এই কোর্সে ফেইল করিয়ে দেন। এমতাবস্থায় অভিযোগকারী খুবই হতাশ এবং মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন বলেও উল্লেখ করেন।

আবেদনের শেষে এই কোর্সের খাতা পুনঃ নিরীক্ষণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে যদি অভিযুক্ত শিক্ষক দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফেইল করানোর বিষয়ে যোগাযোগ করতে চাইলে মুঠোফোনে ফোন দিয়ে পাওয়া যায় নি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের মাধ্যমে তিনি বিভাগের সভাপতি ও পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সাথে যোগাযোগ করতে বলেন এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ছাত্রীর অভিযোগ ও পুনঃনিরীক্ষণের বিষয়ে চবি রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ডঃ দেবাশিস পালিত বলেন- এটি বিভাগীয় সভাপতির বিষয় নয় পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সাথে যোগাযোগ করুন। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দীন বলেন- এ বিষয়ে আমাদের কাজ শেষ, পরীক্ষা কমিটি আমরা মিটিং করেছি আগামীকাল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ যা নেওয়ার তারা নিবে।

বিভাগের বিভিন্ন সূত্র জানায় এই অভিযোগ করার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।


মন্তব্য