জাবি শিক্ষকের উদ্যোগে পলাশ ফুলের বনায়ন

জাবি
  © টিবিএম

এ যেন আরণ্যক উপন্যাসের বৃক্ষপ্রেমী সেই যুগলপ্রসাদেরই এক প্রতিরূপ। যার স্বপ্ন- কল্পনা জুড়ে বনায়ন এবং বৃক্ষরোপণ। লক্ষ্য সবুজ, সুনির্মল এবং সিগ্ধ পরিবেশ তৈরি। সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে যখন গাছকাটার মহোৎসবের খবর চাউর হচ্ছে তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও বৃক্ষনিধনের তকমা পাওয়া থেকে বাদ যায়নি । বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাটা পড়ছে সবুজ বনানী। নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে নির্বিচারে গাছ কাটার খবর। ঠিক সেই সময়ই সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে এক হাজারেরও অধিক গাছ লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামীম হোসেন। যার প্রথম ধাপে দুইশত পলাশের চারা ইতোমধ্যেই রোপণ করা হয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামের পাশে সুইমিংপুল এলাকার ফাঁকা জায়গায় পলাশ গাছের চারাগুলো রোপণ করা হয়েছে। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত শ্রমে চারাগুলোর রোপণ কাজ আজ সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ খুবই প্রয়োজনীয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ প্রতিবেশের জন্য শুধু দৃষ্টিসুখকরই হবে না ফিরে আসবে সবুজ জাহাঙ্গীরনগরের তকমা। পাতাঝরা ডালে আগুন-রঙা পলাশ ফুলের বিচ্ছুরণে বসন্তের আগমন ঘোষিত হবে নবউদ্যমে। পাখির নতুন আবাসস্থল তৈরি হওয়ায় কলকাকলিতে মুখরিত হবে ক্যাম্পাসের এ-স্থানটি। এছাড়া এ ধরনের উদ্যোগে অন্যরা প্রভাবিত হয়ে অন্যরা বৃক্ষরোপনে এগিয়ে আসবে।

সহকারী অধ্যাপক শামীম হোসেন বলেন, "ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকেই বৃক্ষরোপণ শুরু করেছি এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর পরিসর ভবিষ্যতে আরো বিস্তৃত করতে চাই। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রকারের গাছ রোপণের ইচ্ছা আছে।

এ-বছর গ্রীষ্মে সারা দেশের তাপমাত্রা যেখানে দাবদাহে রূপ নেয় সেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কম ছিলো, তুলনামূলক শীতল ছিলো। এর কারণ গাছপালার প্রাচুর্য। বৃক্ষরোপণ তাই অপরিহার্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই পলাশ গাছের নানা ঔষধি গুণ রয়েছে। তাই প্রথম পদক্ষেপে দুইশত পলাশ গাছ রোপন করা হলো।"


মন্তব্য