‘হাইকোর্টের রায় ছাত্র সমাজের সাথে প্রহসন’

কোটা
  © সংগৃৃহীত

কোটা বাতিলের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, হাইকোর্টের রায় ছাত্র সমাজের সাথে প্রহসন। আমরা পড়ালেখা করতে চাই। এভাবে আন্দোলন করতে চাই না। কোটা প্রথা বাতিল চাই।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের সাথে সাথে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতেও কোটা বাতিল করতে হবে।

মঙ্গলবার (৩ জুলাই) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে  “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” এর ব্যানারে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে এসব কথা বলেন আন্দোলনরত ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীদের “সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে", "মেধা না কোটা? মেধা- মেধা", "মেধাবীদের কান্না, আর না, আর না, কোটার বিরুদ্ধে -লড়ায় হবে একসাথে " প্রভৃতি স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে শাহবাগ মোড়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে চার দফা দাবি পড়ে শোনান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সারজিস আলম। দাবিগুলো হলো: ১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে। ২. ২০১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকুরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। ৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে। ৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।"

সংবিধানে কোটার পক্ষে বাংলাদেশ সংবিধানে কোন আইন নেই উল্লেখ করে বিভিন্ন অধ্যাদেশ রেফারেন্স হিসেবে টানেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।

অবস্থান কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধার নাতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শ্রাবণ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, এই কোটার কোন দরকার নাই। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতি। আমি চাই না সরকারি চাকরিতে কোটা থাক। এই কোটা জনগণের সাথে প্রহসন।


মন্তব্য