ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ৮ ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নিলো জাবি শিক্ষার্থীরা

জাবি
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক  © টিবিএম

কোটা পদ্ধতিকে সংশোধনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা টানা ৮ ঘন্টা পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অবরোধ তুলে নিয়েছেন। তবে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর আপিল বিভাগের স্থীতাবস্থা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বুধবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। এতে দীর্ঘ ৮ঘন্টা পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়। তবে দীর্ঘ এসময় মহাসড়ক বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধান ফটক এসে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের একদফা দাবি হলো- সরকারি চাকরিতে সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে নূন্যতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা।

অবরোধকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের তৃতীয় প্রজন্মের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা প্রথা বহাল রাখার যৌক্তিকতা নেই। তাই আমরা কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কার চাই, স্থায়ী সমাধান চাই। আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

এদিকে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ইস্যুতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর আপিল বিভাগের স্থীতাবস্থা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাবি শিক্ষার্থীরা। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফ সোহেল এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আদালত ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল রেখেছে। তবে এখানে কিছু আইনি দুর্বলতা থাকার সুযোগ রয়েছে। আমরা বারবার টালবাহানা দেখতে চাই না। আমরা চাই, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সরকারি চাকরিতে বৈষম্যহীন কোটা ব্যবস্থা চলে আসুক, যেটা বার বার পরিবর্তনের দরকার হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা বাতিল করে সকল পক্ষের জন্য মোট ৫ শতাংশ কোটা রাখা যেতে পারে। তাই কোটা সংস্কারের বিষয়ে নির্বাহী বিভাগ থেকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’


মন্তব্য