কোটা সমস্যার যৌক্তিক ও ইতিবাচক সমাধানের দাবিতে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের মিছিল

হাবিপ্রবি
  © সংগৃহীত

কোটা সমস্যার  যৌক্তিক ও ইতিবাচক সমাধানের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ  করেছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ছাত্রলীগ। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই)  বিকেল ৫:৩০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সম্মুখ থেকে এই  মিছিল ও সমাবেশ শুরু  করে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ। মিছিলটি প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে বিশ্বিবদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়কের উপর দিয়ে ১ নং ফটক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়ে যায়। 

"শেখ হাসিনার মূলনীতি; তারুণ্য, মেধা, প্রযুক্তি" এবং "ছাত্রলীগের আহ্বান, যৌক্তিক সমাধান" স্লোগানে স্লোগানে  উক্ত মিছিল ও সমাবেশটি জমিয়ে তোলেন উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। 

উক্ত মিছিল ও সমাবেশে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন আকাশ বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে আজকের এই কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের মিছিল। ছাত্রলীগ সবসময়ই সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা ভাবেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময়ই চায় যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা চলুক।তারই লক্ষ্যে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।তিনি হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন,আমরা  চেষ্টা করছি কিভাবে শিক্ষার্থীদের একটি সুন্দর ডাইনিং সুবিধা দেওয়া যায়, টিএসসিতে পড়াশোনা চর্চার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রশস্তকরণ,খেলার মাঠ সংস্কার সহ নানাবিধ শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করার।শেখা হাসিনা সরকারই একমাত্র শিক্ষার্থীবান্ধব সরকার। যিনি তরুণ প্রজন্মের কথা ভাবেন।দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কথা ভাবেন।সরকার পক্ষই কিন্তু কোটার যৌক্তিক সংস্কারের জন্য হাইকোর্টে রিট করেছিল। আশা রাখছি বিজ্ঞ আদালত একটি সুন্দর শিক্ষার্থীবান্ধব রায় দিবেন। যেখানে সরকারের নির্বাহি বিভাগ সহযোগিতা করবেন। সে পর্যন্ত সকলের প্রতি আহ্বান থাকবে সকলে শান্ত শিষ্ট ভাবে আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।

হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এম মাসুদ রানা মিঠু বলেন,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সব সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে। শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে। কোটা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, তাদের মনে যে অনুভূতি তৈরী হয়েছে আমরা ছাত্রলীগ পরিবার তাদের সেই অনুভূতিকে সম্মান করি এবং ভালোবাসি। আপনারা জানেন মহামান্য আদালত কোটা থাকার বর্তমান রায়ের উপরে স্থিতাদেশ জারি করেছেন এবং ২০১৮ সালের রায়টি পরবর্তী রায় না হওয়া পর্যন্ত পূনর্বহাল রেখেছে। আমরা মনে করি, কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের উচিত এখন আদালতের পরবর্তী রায়ের জন্য অপেক্ষা করা। এদেশের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রশংসা এবং আশ্বাস রেখে বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার পক্ষ সবসময়ই  শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক।আমরা আশা রাখছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে বিজ্ঞ আদালত একটি সুন্দর রায় দিবেন। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন ঘটানোর মাধ্যমে এদেশকে উন্নয়নের মহাযাত্রায় সামিল করতে চান। সমতার বাংলাদেশ, ন্যায্যতার বাংলাদেশ তৈরীর যে পরিকল্পনা নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বলবো, সরকারের সেই পদক্ষেপগুলোর প্রতি অতীতে যেমন আস্থা রেখেছিলেন,বর্তমানেও সেই আস্থার জায়গাটা অটুট রাখবেন। 

আর আমরা হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেকোনো সঙ্কটে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।ভবিষ্যতেও থাকবে।আমরা চাই হাবিপ্রবিতে পড়ালেখার নিয়মিত পরিবেশ বজায় থাকুক। নিয়মিত পড়াশোনা বজায় রাখতে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ সকল প্রয়োজনীয় ইতিবাচক কাজ করে যাবে।

উপস্থিত ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ঐক্যমত পোষণ করেন।


মন্তব্য