নোয়াখালীতে সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ঘর উপহার দিবেন পুলিশ সুপার

নোয়াখালী
  © সংগৃৃহীত

'নোয়াখালীতে জরাজীর্ণ গৃহে মানবেতর জীবন-যাপন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের; আবেদন করেও পায় নি ঘর' এবং 'মানবেতর জীবন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর, আবেদন করেও পাননি উপহারের ঘর'  ঢাকা পোষ্ট ও দ্য বাংলাদেশ মোমেন্টস সহ জাতীয় কয়েকটি নিউজ পোর্টালে এমন কয়েকটি শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ নজরে আশা মাত্রই প্রয়াত পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা  জয়নাল আবেদীনের পরিবারটির পাশে তাৎক্ষণিক ভাবে এগিয়ে এসেছেন নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিপিএম,পিপিএম বার।

আজ রবিবার (২৮শে জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারামপুর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের পরিবারের জরাজীর্ণ ঘরটি পরিদর্শন করে তাদের একটি পাকা ঘর করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবাগত এই পুলিশ সুপার।  

 এ সময় তিনি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৭৮) কে নগদ অর্থ সহায়তা ও শীত বস্ত্র বিতরণ করে সার্বিক খোঁজ খবর নেন। এছাড়াও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থান দ্রুত পাকাকরণের নির্দেশনা দিয়েছেন। 

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন, ডিএসবি পুলিশ সুপার মোস্তাফিজ ভুইঁয়া, সুধারাম মডেল থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি,ঢাকা পোষ্ট'র নোয়াখালী প্রতিনিধি হাসিব আল আমিন, দ্য বাংলাদেশ মোমেন্টস ও দৈনিক চিত্র'র নোয়াখালী  প্রতিনিধি মাহমুদ ফয়সাল, কাদির হানিফ ইউপির চেয়ারম্যান রহিম চৌধুরী সহ আরো অনেকে। 

পুলিশ সুপারের এমন মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কাদের হানিফ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ ও ভুক্তভোগী পরিবারটি। পুলিশ সুপারের এমন মানবিক উদ্যোগে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেন ৮০ বছেরের বয়োঃবৃদ্ধা ও প্রয়াত পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রেজিয়া বেগম ও তার পরিবার। 

ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, ভাঙ্গাচুরা ঘরটিতে দীর্ঘ কয়েক বছর বসবাস করেছিলাম। বৃষ্টিতে বিঝতাম, রোদে শুকাতাম। একটি ঘর পাওয়ার আশায় কতজনের ধারে ধারে ঘুরেছিলাম। কিন্তু পাই নি। আজ আমাদের আশা পূরণ হতে চলেছে। মাননীয় পুলিশ সুপার আজকে আমাদের পাশে গার্ডিয়ানের মতো এসে দাঁড়িয়েছেন। ঘরটি পেলে কাজ অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। আমরা এসপি স্যার কে ধন্যবাদ জানাই। আমরা নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ওনার জন্য দোয়া করবো।

কাদির হানিফ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহিম চৌধুরী জানান, পুলিশ সুপার  মহোদয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটির খবর জানতে পেরে এগিয়ে এসেছেন। অসহায় এই পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন এবং একটি পাকা ঘরকরণের জন্য দায়িত্ব নিয়েছেন। এতে আমরা অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত। এছাড়াও পুলিশ সুপার মহোদয় ও সাংবাদিকদের কে ধন্যবাদ জানাই।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, গত কয়েকদিন পূর্বে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, একজন দেশ মাতৃকার একজন বীর সন্তান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তাদের থাকার মতো ঘর নেই। বিষয়টি জানতে পেরেছি। যারা আমাদের দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন তাদের পরিবার-পরিজনদের জন্য  আমরা কিছু করতে পারিনা। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। আমি চেষ্টা করবো ওনার ঘরটি পুনর্নির্মাণ করতে। এছাড়াও সবসময় অন্যান্য সহযোগিতা করবো আমার যতটুকু সক্ষমতা আছে।

তিনি আরও বলেন, আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি, বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে দেশের বীর সন্তানদের পরিবার-পরিজনের জন্য কিছু করতে পেরে। তাদের জন্য কিছু করতে পেরে নিজের একটু ঋণ শোধ করার সুযোগ পাচ্ছি।


মন্তব্য