পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হলো ভিনদেশী টিউলিপ বাগান

তেঁতুলিয়া
  © সংগৃহীত

দেশের সর্ব উত্তরের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে ভিনদেশী ফুল টিউলিপ বাগান। গতকাল শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য ফিতা কেটে বাগানের প্রবেশ পথ উন্মুক্ত করেন ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান ও পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতার।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে তৃতীয়বারের মতো তেঁতুলিয়ার সীমান্তবর্ত গ্রাম দর্জিপাড়ায় টিউলিপ ফুল চাষ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এবারো ব্যাপক পর্যটকের সমাগম ঘটবে।

গত দুই বছর টিউলিপ দেখতে এখানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে ।টিউলিপ চাষের সাথে প্রথমে ৮ জন নারী উদ্যোক্তা দিয়ে শুরু হলেও এবারে তা বেড়ে সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৬ জনে । এই ১৬ জনেমিলে ফুটাবে ১৯ প্রজাতির ২৫ হাজার ভিনদেশি রংবেরং এর টিউলিপ। এই টিউলিপ ফুল দেখতে হলে পর্যটকদের প্রবেশ ফি দিয়ে বাগানে প্রবেশ করতে হবে ।

ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান ও পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতার বলেন, বাংলাদেশে খামার পর্যায়ে একদম প্রান্তিক কৃষান-কৃষাণী দিয়ে টিউলিপ চাষের তৃতীয় বর্ষ চলছে । এবার টিউলিপের ভাল্ব (বীজ )ও বিশ্বব্যাপী ডলার সংকটের কারনে টিউলিপ চাষ কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে । তবে এবার একটি ভালো দিকও রয়েছে ,বিগত বছর গুলোতে টিউলিপ ২১ থেকে ২৪ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতো । এবার আমরা প্রত্যাশা করছি দুই মাস ব্যাপী এই ১৯ টি প্রজাতির টিউলিপের সৌন্দর্য ও সৌরভ তেঁতুলিয়া থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিবে । আমরা সারা বছর পর্যটক আকর্ষনের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি । পর্যটকরা টিউলিপ ফুল দেখার পাশাপাশি চাইলে কিনেও নিতে পারবেন, আমরা সেই ব্যবস্থাও রেখেছি। এ মাসের মধ্যেই ফুলে ফুলে ভরে যাবে টিউলিপ বাগান ।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ এর অতিরিক্ত উপ পরিচালক নূর হাসান জানান ,টিউলিপ বাগান এর আগেও আমি দেখেছি আজকেও দেখলাম এটার অনূভূতিই অন্যরকম।

টিউলিপ বাগান দেখতে আসা ঠাকুরগাও জেলার পুলিশ সুপার উত্তম কুমার পাঠক জানান , ইএসডিও তত্বাবধানে ১৯ প্রজাতির টিউলিপ চাষের মাধ্যমে, নারী কৃষাণীদের কর্মসংস্থান আত্বসামাজিক উন্নয়ন তথা সামগ্রিক ভাবে দেশের উন্নয়ন হবে ।

টিউলিপ কৃষাণী মোর্শেদা বেগম ও আয়েশা সিদ্দিকা জানান, আমরা আশা করছি এবছর টিউলিপ চাষে অনেক লাভবান হবো ।

ইসডিও তেঁতুলিয়ার ব্যবস্থাপক ওলিয়র রহমান জানান, আমাদের ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান ও পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করার জন্য এই টিউলিপ চাষের উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছেন । তৃতীয়বারের মতো এবারে ২৫ হাজার ভাল্ব (বীজ) বোপন করা হয়েছে , আশা করছি টিউলিপ চাষিরা অনেক লাভবান হবে ।

টিউলিপ প্রজেক্ট এর কৃষিবিদ কল্যাণ মহন্ত জানান, এখানকার আবহাওয়া টিউলিপ চাষের অনূকূলে হওয়ায় টিউলিপ চাষ ভাল হয়। টিউলিপ ফুল প্রায় দুইশ পঞ্চাশ প্রজাতির রয়েছে ,তাই আমি এখানে সার্বক্ষনিক তদারকি করছি এখানে কোন কোন প্রজাতি এই মাটির জন্য উপযোগী ।


মন্তব্য