কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যা জানা গেল

ট্রেন
  © সংগৃহীত

কুমিল্লায় রোববার (১৭ মার্চ) ট্রেন দুর্ঘটনার পরপর স্টেশনমাস্টার বলেছিলেন, গরমে রেললাইন বেঁকে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ বক্তব্যের সত্যতা পাননি রেলের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা। তাদের ধারণা, ২০৮ নম্বর রেলওয়ে সেতুর নড়বড়ে কাঠের স্লিপার ও ত্রুটিপূর্ণ নাটবল্টু দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

রোববার (১৭ মার্চ) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিঞা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রেললাইন বেঁকে যাওয়ার কারণে বগি লাইনচ্যুত হওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, সরেজমিনে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ঠিক কী কারণে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে এর কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করছি প্রতিবেদনে সঠিক কারণ জানা যাবে।

দুর্ঘটনার পর হাসানপুর রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার মং গু মারমা বলেছিলেন, গরমের কারণে রেললাইন বাঁকা হয়ে গেছে। এ কারণে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর সত্যতা পাননি রেলের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা। এখন ধারণা করা হচ্ছে, ২০৮ নম্বর রেলওয়ে সেতুর নড়বড়ে কাঠের স্লিপার ও নাট-বল্টুতে ত্রুটি থাকায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনার পর ট্রেনের ইঞ্জিনের হুক খুলে গেলে ইঞ্জিনসহ চালক রক্ষা পান। পরে চালক ইঞ্জিনটিকে হাসানপুর রেলস্টেশনে নিয়ে যান।

রোববার (১৭ মার্চ) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বিজয় এক্সপ্রেস। দুপুর পৌনে ২টায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাসানপুরের তেজের বাজার এলাকায় পৌঁছালে বগি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ট্রেনটির ইঞ্জিন। এতে গতি কমে আসা ইঞ্জিনকে পেছন থেকে আবার ধাক্কা দেয় বগিগুলো। এতে একে একে ৯টি বগি যাত্রী নিয়ে পড়ে যায় রেললাইনের পাশে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ আহত হন। তাদের সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।


মন্তব্য