কাঠি নিথ্য নিয়ে ফাগুয়া উৎসবে মেতে উঠেছে চা শ্রমিকরা

মৌলভীবাজার
  © সংগৃহীত

মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চা বাগানগুলোয় শুরু হয়েছে ফাগুয়া উৎসব। নেচে গেয়ে রঙ খেলে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনে ফাগুয়া উৎসবে মাতায়ারা চা শ্রমিকরা। স্বল্প মজুরি, মূল্যবৃদ্ধির পণ্যের বাজারে কষ্টকর ও স্বপ্নহীন জীবনে ফাগুয়া তাদের জন্য বয়ে আনে আনন্দের জোয়ার। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত।

সোমবার (২৫ মার্চ) সকালে  শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাখাই ছড়া চা বাগান, কালিঘাট চা বাগান, ফুলছড়া , খাইছড়া চা বাগান, ভুরিভুরিয়া  চা-বাগান ও  ভাড়াউড়া চা বাগান, সোনাছড়া বাগানসহ একাধিক চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ফাগুয়া উৎসবের নানা আয়োজন। অনেক মেয়েই স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি বেড়াতে এসেছেন। শিশু-কিশোর থেকে সব বয়সি নারী-পুরুষ একে অন্যকে রঙ লাগিয়ে দিচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি চলছে চা বাগানের ঐতিহ্যবাহী কাঠি নৃত্যের আয়োজন। রান্না হচ্ছে সুস্বাদু খাবার দাবার। লাল, কালো, নীল রঙের খেলায় শিশু-কিশোরসহ সব বয়সি নারী-পুরুষ এখন মাতোয়ারা ফাগুয়া উৎসবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফাগুয়া চা-শ্রমিকদের এক অন্যতম উৎসব। এটি হোলি নামেও পরিচিত। এ উৎসব উপলক্ষে চা-বাগানগুলোয় শুরু হয়েছে কাঠি নাচ। উৎসবকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়ি আসেন মেয়েরা। প্রতিটি চা-বাগানে তরুণ-তরুণীরা রঙের সাজে সেজে নাচের দল নিয়ে বের হন। মাদলের তালের সঙ্গে পাহাড়ি গানের সুর সৃষ্টি করে এক অন্য রকম আবহ, মাধুর্য। বাগান কর্তৃপক্ষ ফাগুয়া উপলক্ষে চা-শ্রমিকদের ছুটি ও উৎসব ভাতা দিয়ে থাকেন।

শ্রীমঙ্গল চা বাগানের তরুণদের নিয়ে কাজ ‘উৎসর্গ তরুণ’। চা শ্রমিক সাগর কুর্মী বলেন, চা বাগানের ফাগুয়া উৎসব দুর্গাপূজার পরে চা শ্রমিকদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব। চা-শ্রমিকদের সংগ্রামী জীবনে প্রতিবছর ফাগুয়া উৎসব আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে। ফাগুয়া উৎসবের দুই সপ্তাহ আগে থেকে কাঠি নাচের মহড়া চলে। যারা ভালো নাচতে পারেন, গাইতে পারেন, বাজাতে পারেন, তাদের নিয়ে দল করা হয়। একেকটি চা-বাগানে লাঠি নাচের দু-তিনটি দল হয়। স্বল্প আয়ের চা-শ্রমিকরা এই ফাগুয়া উৎসব ঘিরে প্রতিবছর বিভিন্ন আয়োজন করে থাকেন। আগে ফাগুয়া উৎসবে কড়া রং ব্যবহার করা হতো। এখন আবির দিয়ে তৈরি রঙ দিয়ে রঙ খেলা হয়। তাছাড়া কাঠি নৃত্যের দলও এখন অনেক কমে গেছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ছাত্র যুবক সাজন হাজরা বলেন, ‘দোলযাত্রা একটি হিন্দু বৈষ্ণব উৎসব। এই উৎসবের অপর নাম বসন্তোৎসব। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা হয়। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্য গোপিনীর সঙ্গে রঙ খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল যাত্রায় রঙ খেলা হয়। দোলযাত্রার দিন সকালে রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তন সহকারে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর ভক্তেরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রঙ খেলায় মাতেন। ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়। চা বাগানে এই উৎসবকে ফাগুয়া উৎসব বলে।’


মন্তব্য