বান্দরবানে ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও দুই ব্যাংকে ডাকাতি

ডাকাতি
  © ফাইল ছবি

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকে লুট করে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। এ সময় পুলিশ ও আনসার বাহিনীর ১৪টি অস্ত্র, মোবাইল, ব্যাংকের ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর এ সদস্যরা। এ ঘটনার ১৫ ঘণ্টা না যেতেই আবারও সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের দুটি শাখায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

আজ বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।

সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল মিডিয়া (বান্দরবান) মো. ওসমান গণি গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল রাতে ডাকাতির ঘটনা শুনে আমরা সকালে রুমা শাখায় আসি। হঠাৎ শুনতে পেলাম আজ থানচি শাখায় ডাকাতের হামলা। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও আমাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

এ ঘটনার পর বান্দরবানে সোনালী ব্যাংকের ছয়টি শাখায় লেনদেন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু ব্যাংকের বান্দরবান সদর শাখা লেনদেন পরিচালনা করছে বলে জানান ব্যাংকটির ডেপুটি জেনারেল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ডাকাতরা থানচি বাজার ঘিরে ফেলে। তারা ব্যাংক ও এর আশপাশের এলাকায় সবাইকে বন্দুকের মুখে আটকে রাখে এবং সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর তারা ব্যাংকে প্রবেশ করে।

ব্যাংকের ভেতরে টাকা তুলতে যাওয়া একাধিক ব্যক্তি জানান, ডাকাতরা প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে ভেতরে অবস্থান করে। এ সময় তারা নিরাপত্তারক্ষীর অস্ত্র কেড়ে নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ফাঁকা গুলি চালায়। তার পরপরই তারা গ্রাহক, কাউন্টার ও ভল্ট থেকে টাকা সংগ্রহ করে বস্তায় ভরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

কৃষি ব্যাংকের থানচি শাখার ব্যবস্থাপক হ্লাসউইথওয়াই মারমা জানান, দুপুর ১২টার দিকে দুটি জিপভর্তি যাত্রী ব্যাংকে ঢুকে পড়ে। ব্যাংকের ভেতরে আলাদা কক্ষে নিয়ে আমাদের তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরে তারা কাগজপত্র এলোমেলো করে চলে যায়।

এদিকে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন বলেন, একটি সশস্ত্র সংগঠনের ১৫-২০ জনের একটি দল কৃষি ও সোনালী ব্যাংকে ঢুকে ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যান। এ সময় তারা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে তারা কোনো টাকা নেননি।

এদিকে বুধবার ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা জানার জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহফুজুর রহমান, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন ও পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, ব্যাংকের ভেতরে ভাঙচুর হয়েছে। টাকা লুট হয়েছে কিনা তা বলা যাচ্ছে না। ভল্টে প্রবেশের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট লাগবে। সিআইডি এসে ভল্ট পর্যবেক্ষণ করার পরে বিস্তারিত বলতে পারব।

আইজিপি বলেন, কী কাজ করছি এখন বলতে চাচ্ছি না। তবে সকলে সমন্বিতভাবে ম্যানেজারকে উদ্ধারে কাজ করছি। টাকা আদৌ কি খোয়া গেছে কি না তা ম্যানেজারকে উদ্ধারের পর বলতে পারব। সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে আমরা সদস্য সমন্বিতভাবে কাজ করছি। আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা আছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন বলেছেন, ভল্ট খোলার জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট লাগবে। ভল্ট খোলা যায়নি। টাকা নিয়েছে কি না সেটা এখন বলা যাবে না। আরও কিছু সময় লাগবে।

রুমার সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার উথোয়চিং জানান, ডরমেটোরিতে যাওয়ার পথে আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয় হঠাৎ করে। প্যান্টের পকেটে যা টাকা ছিল সবগুলো তারা নিয়ে গেছে। এরপর আমার পকেট থেকে ব্যাংকের চাবি নিয়ে নেয় এবং অস্ত্রের মুখে বলে নড়াচাড়া করলে গুলি করে দেবো। এরপর আমি কিছু জানি না। ব্যাংকে ফিরে এসে দেখি ব্যাংকের ভেতরে ভাঙচুর চালিয়েছে।


মন্তব্য