নরসিংদীতে মৌচাকের মধু সংগ্রহ কেন্দ্র করে তৃমুখী সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর লুটপাট

নরসিংদী
  © সংগৃহীত

নরসিংদীর রায়পুরায় মৌছাকের মধু সংগ্রহকে কেন্দ্র তৃমুখী সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর লুটপাট ঘটনা ঘটেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ নামা পাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ)অনির্বাণ চৌধুরী, জেলা সহকারী পুলিশ সুপার রায়পুরা সার্কেল আফসার আল আলম, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো সাফায়েত হোসেন পলাশ, মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী প্রমূখ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি মাহমুদাবাদ ইব্রাহিমপুর ব্রিজের নিচে মৌছাকের মধু সংগ্রহকে কেন্দ্র স্থানীয় যুবকদের মাঝে বাক বিতন্ডা সৃষ্টি হয়। এনিয়ে এক পক্ষের লোকজন অপর পক্ষের লোকজনকে পর পর আটকিয়ে রাখে। এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়দের নিয়ে সালিশি বৈঠক বসে। সালিশে বৈঠকে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মাহমুদাবাদ গ্রামের হাজারি বাড়ি ও নয়াগাঁজীর বাড়ির লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে ইব্রাহিমপুর গ্রামের লোকজনের মাঝে তৃমুখী  সংঘর্ষে জরিয়ে পরে। দুপুরে ১২ থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এ সময় সফর উদ্দিনের বাড়ি ও হাজারি বাড়ির বেশ কয়েকটি খড়ের গাদায় বসতঘর রান্নাঘর গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর লুটপাট করে। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনা স্থলে এসে দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন এবং সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছ।   

ভুক্তভোগী লিল মিয়া হাজারী বলেন, ইব্রাহিমপুর মাহমুদাবাদ গ্রামের যুবকদের মাঝে তুচ্ছ ঘটনা কে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার মিমাংসা করতে বসে। হঠাৎ মাহমুদাবাদ নুয়াখাঁজীর বাড়ির শফিক ও তার লোকজন হাজারী বাড়ির লোকজনের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে অগ্ন সংযোগ ভাঙ চুল লুটপাট করে চলে যায়। আমার চারটি বসতঘর রান্নাঘর গোয়ালঘর খেড়ের পাড়ায় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে বিনষ্টসহ লোটপাট করে।        

স্থানীয় বাসিন্দা মো রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যুবসমাজের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ না থাকার কারনে শিক্ষার অভাবে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটছে। আশা করি অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর ঘটবে না।

ইউপি সদস্য রিপন মিয়া বলেন, তুচ্ছ ঘটনা কি কেন্দ্র করে সালিশিং মীমাংসায় তৃমুখী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর লুটপাট করে। আমার বাড়িতে বানচুর চালায়। এ সময় আমার স্ত্রী গুরুতর আহত হয। সে বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। '  

জেলা সহকারী পুলিশ সুপার রায়পুরা সার্কেল আফসার আল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে  পুলিশে সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। সামনে আপনি কি কর ঘটনা এড়াতে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায় রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


মন্তব্য