অবসরের ২ মাস আগে পৌনে ২ কোটি টাকার চাল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা 'উধাও'

উধাও
  © ফাইল ছবি

সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার আর মাত্র দু'মাস বাকি। কিন্তু তার আগেই প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকার চাল আত্মসাৎ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ডুগডুগি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম। চাল আত্মসাতের বিষয়টি জানার পরপর তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়। 

গত মঙ্গলবার (৭ মে) সন্ধ্যা ৭টায় গণনা শেষে এক কোটি ৬৭ লাখ ৪৬ হাজার ২৫৯ টাকার ৩১৯.১৪১ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২০ টাকার ৪ হাজার ২৭৮টি খালি বস্তার ঘাটতি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ঘোড়াঘাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইউনুস আলী মন্ডল দুর্নীতি দমন আইনে ঘোড়াঘাট থানায় একটি জিডি করেছেন। 

সেই জিডির পর ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে দিনাজপুর দুদকের কাছে। মামলা দায়েরের অনুমতির জন্য সেই প্রতিবেদন দুদক আগামীকাল রোববার প্রধান কার্যালয়ে পাঠাবে।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইউনুস আলী বলেন, গত ১৫ এপ্রিল ঘোড়াঘাট উপজেলায় ডুগডুগি এলএসডি গুদাম পরিদর্শনে গিয়ে চাল ও বস্তা কম দেখতে পান তিনি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বিষয়টি জানানো হয়। এর মধ্যে খাদ্যগুদামের হিসাব দিতে একাধিকবার আনোয়ারা বেগমকে বলা হলেও তিনি তা না দিয়ে গুদামের চাবি নিয়ে চলে যান। 

ইউনুস আলী বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার দুমাস আগে গত ২৫ এপ্রিল কাউকে না জানিয়ে ছুটি না নিয়ে গুদামে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে গা-ঢাকা দেন আনোয়ারা বেগম।

আনোয়ারা বেগম দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ওই খাদ্যগুদামে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানা যায়। তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নুনিয়াগাড়ী গ্রামের আব্দুল মতিন মন্ডলের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই পলাতক তিনি। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ। 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী জানিয়েছেন, আনোয়ারা বেগমকে গত বুধবার রাতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চাল আত্মসাতের বিষয়টি জানার পরপরই ওই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বরখাস্ত করা হয়েছে একজন পিয়ন ও প্রহরীকে। তাঁকে আটকের জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রশাসন কাজ করছে।  

দিনাজপুর জেলা দুদকের সহকারী পরিচালক ইসমাইল মুসা বলেন, রোববার তারা তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রধান কার্যালয়ে মামলা অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন। অনুমোদনের পর তারা বাকি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তথ্যসূত্র: ইনডিপেনডেন্ট


মন্তব্য