রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার আস্তানা, অভিযানে মিললো বিপুল অস্ত্র

উখিয়া
  © সংগৃহীত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার হয়ে আধিপত্য বিস্তার কোন্দলসহ খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বাংলাদেশের আরসার অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক ও কমান্ডার মোঃ শাহনুর প্রকাশ মাস্টার সলিম। সে অস্ত্র চালনাসহ বিভিন্ন বিস্ফোরকের উপর পারদর্শী। এছাড়াও সে বাংলাদেশে আরসার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পাশের দেশসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাশ সৃষ্টি করেছে তিনি। যার কারনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুনরায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্রীক মারামারি, সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। তার বিরুদ্ধে ৩টি হত্যা মামলাসহ অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য স্বীকার করেছে আরসা কমান্ডার মোঃ শাহনুর প্রকাশ মাস্টার সলিম। তার সাথে গ্রেপ্তার হয়েছে মোঃ রিয়াজ নামের তার একজন সহযোগী।

বুধবার (১৫ মে) সকালের দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২০ এক্সটেনশন সংলগ্ন লাল পাহাড়ের আরসার আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের আস্তানা থেকে ৫টি গ্রেনেড, ৩টি রাইফেল গ্রেনেড, ১০টি দেশীয় তৈরী হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৩টি ককটেল, ১টি বিদেশী রিভলবার, ৯ রাউন্ড 9MM পিস্তলের এ্যামুনিশন, ১টি এলজি এবং ৩টি ১২ বোর কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এরপর উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক, গ্রেনেড, আইইডি এবং রকেট শেল ধ্বংস করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল।

গ্রেপ্তারকৃত মোঃ শাহনুর প্রকাশ মাস্টার সলিম (৩৮) হলেন ১৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সৈয়দুল আবেরার ছেলে এবং মোঃ রিয়াজ (২৭) হলো ০৮/ডব্লিউ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-এ/২৩ এর মৃত মোহাম্মদ নুরের ছেলে।

মাস্টার সলিমের সহযোগী মোঃ রিয়াজ র‌্যাবের কাছে স্বীকার করে- সে ২০১৭ সালে বাস্তুচ্যুত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ হতে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ এবং ২০১৮ সালে মৌলভী মোঃ ইব্রাহিমের মাধ্যমে আরসায় যোগদান করে আরসার হয়ে পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করে। এরপর পর ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুনরায় পাশের দেশে ফিরে যায় এবং সেখানে ৬ মাসের সামরিক বিভিন্ন বিষয়াদিসহ মাইন, বোমা, হাত বোমা ও বিস্ফোরক তৈরীতে প্রশিক্ষণ লাভ করে। আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করে গ্রেফতারকৃত মাস্টার সলিমের অন্যতম সহযোগী হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতো বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে ১টি হত্যা মামলাও আছে বলে জানা যায়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব -১৫ কক্সবাজার।

দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন- সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যাকান্ড এবং বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারনে ক্যাম্পে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারী শুরু করি আমরা। আরসাসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো পাশের দেশ থেকে কিছু আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসার একটি তথ্য আমাদের কাছে আসে। এছাড়াও পাশের দেশ থেকে কিছু আরসা সদস্যকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠিয়েছে বলেও তথ্য পাই আমরা। কয়েকদিন আগেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অরাজকতা সৃষ্টি করে হেড মাঝিসহ কয়েক রোহিঙ্গাকে গুলি ও গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়ার ক্যাম্প সংলগ্ন গহিন পাহাড়ে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার আস্তানা অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (১৪ মে) ভোরে ক্যাম্প ২০ এক্মটেনসের পাশে লাল পাহাড় ঘিরে ফেলা হয়। একপর্যায়ে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। এরপর র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়ে। শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের আস্তানায় ঢুকে পড়লে আরসার দুই সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। এ সময় অস্ত্র, গ্রেনেড ও রকেট সেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।রয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ