ভোলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মারধরের শিকার ২ এইচএসসি পরীক্ষার্থী

ভোলা
মারধরের শিকার দুই পরীক্ষার্থী   © টিবিএম ফটো

গত ২১মে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোলা সদর উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুসের একদল সমর্থকের বিরুদ্ধে শান্ত ও জিহাদ নামের দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে মারধার হয়েছে বলে স্বীকার করলেও মামলা নিচ্ছে না ভোলা সদর থানার পুলিশ কর্তকর্তা।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার মালের হাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত দুই শিক্ষার্থীকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। জানা যায়, এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন রফিকুল ইসলাম মাস্টার। এছাড়া রাকিব, আব্বাস, নুর ইসলাম এবং শান্তসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন হামলায় অংশ নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন। তার পক্ষে প্রচারণা চালানোর কারণে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের চক্ষুশূল হয়ে পড়েন মোশাররফ হোসেনের সমর্থকরা। পরবর্তীতে গত ২১ মে নির্বাচন শেষে মোশাররফ হোসেন হেরে গেলে চেয়ারম্যান সমর্থকদের ভয়ে তটস্থ হয়ে পড়েন মোশাররফ হোসেনের সমর্থকরা।

অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীর সমর্থক গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়াসহ তাদের ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের বাধা সৃষ্টি শুরু করেন এবং মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন অন্যথায় এলাকা থেকে তাদেরকে উৎখাত করার হুমকি দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি তারা (মোশাররফ সমর্থক) মোশারফ হোসেনকে জানালে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপরে হামলা চালান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোশাররফ হোসেনের একাধিক সমর্থক দ্য বাংলাদেশ মোমেন্টসকে জানান, চেয়ারম্যান সমর্থকদের ভয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন মোশাররফ সমর্থকরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির বাইরে বের হলে তাদেরকে ধাওয়া ও হত্যা করার হুমকি দেন অভিযুক্তরা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি  স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেনকে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়ার পর আজ দুপুরে ভিকটিম শান্ত এবং জিহাদ খাতা এবং কলম কেনার জন্য মালের হাট বাজারে গেলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা হামলাকারীরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।

তারা আরও জানান, অভিযুক্তরা হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের লোকজন পাঠিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের স্বজনদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আহত দুই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান মোশাররফ হোসেনের বেশ কয়েকজন সমর্থক।

এই মারধরের সত্যতা নিশ্চিত করে ভোলা সদর থানার একজন পুলিশ বলেন,  এই বিষয় তদন্ত করে  দেখেছি, প্রতিপক্ষের হামলায় দুইজন আহত হয়েছে। এই বিষয়টি থানায় অবগত করেছি। মামলা নেওয়ার বিষয়টি আমার দায়িত্ব না, ওসি স্যার চাইলে নিতে পারেন।

মারধার হয়েছে বলে স্বীকার করে ভোলা সদর থানার ওসি মোঃ এনায়েত হোসেন বলেন, যেভাবে মারধার হয়েছে তাতে মামলা যোগ্য না। তখন জিজ্ঞাসা করা হয় তাহলে খুন হওয়ার পরই শুধু মামলা হবে? তখন তিনি ব্যস্ত বলে ফোন রেখে দেন।


মন্তব্য