প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে ঝুলছে তালা, থাকতে অনীহা

গৃহায়ণ
  © সংগৃৃহীত

মুজিববর্ষে হতদরিদ্র, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহায়ণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ থমকে গেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে।  পানি, মসজিদ, জলাবদ্ধতা ও যাতায়াতে সমস্যায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে তালা ঝুলছে।  সংশ্লিষ্টদের তদারকি না থাকাকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে উপজেলায় দুই ধাপে সরকারি খাসজমিতে ৪৬৫টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে উপজেলায় গৃহনির্মাণকাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ, সুপেয় পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা, মসজিদ ও যাতায়াত সমস্যায় ১০৫ ঘরে ঝুলছে তালা।

উপজেলার বামনী ইউনিয়নের বাংলাবাজারে ৯৪, শিবপুরে ১০, কেরোয়া ইউনিয়নের মীরগঞ্জ বাজারের পাশে ৯, দক্ষিণ চরবংশী ইউপির মেঘনা নদী সংলগ্ন মিয়ারহাটে ৪৫, হাজিমারায় ৪৪, কারিমিয়ায় ১১১, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে কুচিয়ামারায় ২২, মদিনাবাজারে ৪৩, দক্ষিণ চর আবাবিল ইউপির উদমারা গ্রামে ৭৯টিসহ ৪৬৫টি ভূমিহীন পরিবারকে গত ২৩ জানুয়ারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে ঘরে উঠতে অনীহা প্রকাশ করেন উপকারভোগীরা। ৩৬০টিতে মানুষের বসবাস। বাকি ১০৫টি ঘরে ঝুলছে তালা।

দক্ষিণ চরবংশি ইউপির মেঘনা নদী সংলগ্ন মিয়ারহাট আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারীদের অভিযোগ, ওই এলাকায় কাজের সুযোগ নেই। যাতায়াতের ব্যবস্থাও নাজুক। মসজিদ ও কবরস্থানও নাই। বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা। ৪৫টি পরিবারের জন্য সচল মাত্র তিনটি টিউবওয়েল।

মিয়ারহাট আশ্রয়ণকেন্দ্রের বাসিন্দা সালমা খাতুন (৪৩), সাজেদা (৪১), আমেনা (২৬), হোসনে আরা (২৮), মঙ্গল হাওলাদার (৪৫), নাসিমা বেগম (২৩) বলেন, কয়েক মাসেই মধ্যে পুকুরপাড়ের গাইডওয়ালসহ দুটি ঘর ভেঙে যাবে। নিজস্ব কবরস্থান, মসজিদ ও পুকুর নাই।  ৪৫ ঘরের মধ্যে মাত্র ২৫টিতে মানুষের বসবাস। 
মেঘনার জোয়ারের সময় হাঁটুপানি থাকে। ময়লা-আবর্জনায় ভরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এখানে পানির খুব সমস্যা। ৫টির মধ্য ৩টি টিউবওয়েল সচল রয়েছে। অচল টিউবওয়েলের গলির বাসিন্দারা অন্য গলিতে গেলেই ঝগড়া হচ্ছে। তাই অনেক পরিবারকেই বাইরে থেকে পানি আনতে হচ্ছে। 

তারা আরও বলেন, ‘এখানে জমি নেই, রাস্তাঘাট ভালো না, কাজও নেই। আমাদের স্বামীরা অনেক দূরে গিয়ে যা কাজ পায় তা-ই করে। অনেক কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। এভাবে বেশি দিন থাকা সম্ভব না।’

একই চিত্র বামনী, চরআবাবিল, কেরোয়া ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের আশ্রায়ণকেন্দ্রেও। এসব ঘরের চাবি হস্তান্তর হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ, সুপেয় পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশনের সুবিধা নেই। তাই ওঠেনি অনেক পরিবারও। বর্ষাকালে পানি ওঠা আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রায়পুরের চরআবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম জিকু, দক্ষিণ চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরাজি, উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ও বামনী ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন বলেন, সুপেয় পানি, পুকুর, রাস্তা, বিদ্যুৎ, মসজিদ ও জলাবদ্ধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারপরে আমরা দেখি- আশ্রয়ণবাসীদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। 

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান খান বলেন, আমি মাত্র দুই মাস হলো নতুন যোগদান করেছি। যারা ঘর পেয়েছেন কিন্তু এখনো আসেননি তাদের আসার জন্য বলা হবে। এরপরও যদি তারা না আসেন, তবে বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। খোঁজ নিয়ে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।


মন্তব্য