রাজধানীতে বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ৪

ঘূর্ণিঝড়
  © ফাইল ফটো

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেশের অন্যান্য জেলার মতো রাজধানী ঢাকাতেও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ঝরছে। রাজধানীতে বৃষ্টিতে পৃথক ঘটনায় বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই নারীসহ ৪ জন মারা গেছে। নিহতরা হলো– মরিয়ম বেগম (৪৫), মো. রাকিব (২৫), লিজা আক্তার (১৫) ও বাড্ডার বাসিন্দা আল আমিন। জলাবদ্ধ রাস্তায় হাঁটার সময় বিদ্যুৎপৃষ্টে মারা যান আল আমিন। সোমবার (২৭ মে) রাতে খিলগাঁও ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। বিদ্যুতায়িত হয়ে অসুস্থ হলে তাদের তিনজনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। 

জানা গেছে, রাত নয়টার দিকে খিলগাঁও সিপাহীবাগ আইসক্রিম গলির মক্কা টাওয়ারের পাশে একটি রাস্তায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন মরিয়ম। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমেছিল। বৈদ্যুতিক খুঁটি বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনি মারা যেতে পারেন বলে স্থানীয় অনেকের ধারণা। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মরিয়মকে মৃত ঘোষণা করেন। মরিয়মের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলায়। পরিবারের সঙ্গে খিলগাঁও মেরাদিয়া কবরস্থান গলিতে থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন তিনি। রাতে কারখানা থেকে বাসায় ফিরে ছেলে ইয়ামিনকে খুঁজতে বের হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, খিলগাঁও রিয়াজবাগ এলাকার রিকশার গ্যারেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাকিব নামে ২৫ বছর বয়সী এক যুবক মারা গেছেন। মৃত রাকিবকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার সহকর্মী খোকন মিয়া জানান, রাকিবের বাড়ি ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায়। তারা খিলগাঁও রিয়াজবাগ ৬ নম্বর গলিতে একটি রিকশার গ্যারেজে থেকে রিকশা চালান। রাতে বৃষ্টির কারণে তাদের রিকশার গ্যারেজে পানি জমে ছিল। সেই পানির মধ্যে রিকশা রেখে ব্যাটারি চার্জ করছিলেন রাকিব। ওই চার্জার খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া যাত্রাবাড়ীতে টিনের প্রাচীর স্পর্শ করে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লিজা আক্তার নামে এক কিশোরী নিহত হয়েছেন। লিজা নোয়াখালী জেলার চরজব্বার উপজেলার মো. সিরাজ খানের মেয়ে। যাত্রাবাড়ীর দরবার শরীফ এলাকায় তারা থাকেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসার পাশে টিনের প্রাচীর কোনো কারণে স্পর্শ করলে সেখান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় লিজা। পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতালে ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সবার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।


মন্তব্য