কয়েক যুগ ধরে গাছের নিচ থেকে অবিরতভাবে আসছে পানি!

পানি
  © ইনডিপেনডেন্ট

গাছের নিচ থেকে আসছে পানি। এছাড়া নলকূপ থেকে বিনা চাপে অবিরতভাবে আসছে পানি। গাছটির নিচ থেকে পানি আসছে কয়েক যুগ ধরে। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে এক মুহুর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি পানি আসা। এই পানি দিয়ে আবাদ হয় কমপক্ষে শত একর ফসলি জমি। এছাড়া নলকূপ থেকে পানি আসছে প্রায় এক যুগ ধরে। এমন ঘটনা চোখে পড়ে জামালপুরে। 

গাছ দুটির অবস্থান জামালপুরের ধানুয়া কামালপুরের বৈষ্ণবপাড়া গ্রামে। স্থানীয় পাহাড়িরা এটিকে অলৌকিক মনে করলেও গাছ ও নলকূপের নিচে গ্যাসের স্তূপ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে জনস্বাস্থ্য।

এছাড়া ওই গ্রামের দুটি নলকূপ থেকে পানি আসছে এক যুগ যাবত। নলকূপ দুইটির দেখা মিলে জামালপুরের বকশীগঞ্জের পাহাড়ি অঞ্চল রামখনঝুরা এলাকার দিনমজুর বাবুল ও হামিদের বাড়িতে।

গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা বলছেন,পাহাড়ি এলাকায় এমন চিত্র আগে দেখেননি তারা। এগুলো অলৌকিক বলে দাবি তাদের। আর অন্যান্য পানির তুলনায় এই পানি অধিক স্বাদের। আর গাছের নিচ থেকে আসা পানিতে আবাদ হয় কমপক্ষে শত একর ফসলি জমি। 

মঙ্গলবার সকালে জেলা বকশিগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী দুইটি পাকুর গাছের নিচ থেকে আসছে পানি। সেখানে পানি সংরক্ষনের জন্য কিছু জায়গায় মাটি উচু করে রেখেছে স্থানীয়রা। মূলত গাছ দুটির শেকড়ের নিচের মাটি থেকে উপচে আসছে পানি। সেখানেই গোসল করাসহ প্রয়োজনীয় কাজ করছেন কয়েকজন।

আর একই ইউনিয়নের বালিজুড়ী বাজারের পরে রামখনঝুরা গ্রামে গিয়ে বাবুল ও হামিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানকার দুইটি নলকূপ দিয়ে অবিরতভাবে আসছে পানি।

নলকূপ একটির মালিক দিনমজুর মো. বাবুল বলেন, ‘আমাদের পাহাড়ি এলাকায় ২০০-৩০০ ফুট নিচেও পানির স্তর পাওয়া যায় না। কিন্তু আমার এখানে ৬৫ ফুট নিচে যাওয়ার পরেই পানির স্তর পাওয়া গেছে। আর আমার প্রতিবেশী হামিদের টাও একই অবস্থা। আমার টাতে অবিরতভাবে পানি আসতাছে ৬ বছর যাবত আর হামিদের নলকূপে পানি আসতাছে এক যুগ ধরে।’

মো. রাশেদ নামে স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘চৈত্র মাসে এই নলকূপ দুইটা থেকে পানি কিছুটা কম আসলেও বর্ষা কালে প্রচুর পানি আসে। গত ৬ বছর আর ১২ বছর যাবত দুই নলকূপ থেকে পানি আসতাছে। এক সেকেন্ডের জন্যও পানি আসা বন্ধ হয়নি।’

দিঘলাকোনা এলাকার বাসিন্দা জয় দাংগো বলেন, ‘এই দুই গাছের নিচ থেকে সারা বছর পানি আসে। আমি, আমার বাবা, আমার দাদা সবাই দেখেছে। যুগ যুগ ধরে এই দুই গাছের নিচ থেকে পানি আসছে। এর পানি দিয়ে স্থানীয়রা ক্ষেতে সেচ দেয়। তাদের সেচের টাকা বেঁচে যায়। আর পানি অনেক ঠান্ডা। এলাকার সবাই এখানেই গোসল করে। প্রয়োজনীয় কাজ সারে।’

সেই গাছ আর নলকূপ দুইটি দেখতে ভীর করে অনেকেই। আবার অনেকে বোতল করে নিয়ে যায় এর পানি। আর পাহাড়ে পানির সংকট দেখা দিলে স্থানীয় গ্রামবাসীর শেষ ভরসা থাকে এই এই জায়গাগুলো।

তবে জামালপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতায় যতুটুক মনে হয়। এই গাছ দুটো ও নলকূপ দুটোর নিচে গ্যাসের স্তুপ আছে। সে কারণে পানি উপরের দিকে চলে আসছে। আর বাকি টুকু আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে বলতে পারবো।’

তথ্যসূত্র: ইনডিপেনডেন্ট


মন্তব্য