সিলেটে

লাথিতে ৭ মাসের গর্ভ সন্তানের মৃত্যু, কাউন্সিলর তুহিনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সিলেট
  © সংগৃহীত

সিলেটে বাসা নিয়ে দ্বন্ধে ৭ মাসের গর্ভবতীর পেঠে লাথি  মেরে অজাত সন্তানের মৃত্যুতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের জুবের আহমদ সাকুর স্ত্রী লিপি বেগম বাদী হয়ে সিলেট মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ২৬ মে মামলাটি দায়ের করলে আদালত শাহপরান (র.) থানাকে মামলা এজাহার হিসেবে গন্য করার আদেশ দেন। মামলা নং সি. আর- ২১১/২০২৪। শাহপরাণ (র.) থানা জি.আর মামলা নং-২৫/১৩৬। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামীরা জোর পূর্বক ভাবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিল্ডিং কোড অমান্য করে বাদীর স্বামীর জায়গা দখলের পায়তারা করার নিমিত্তে বাদীর বাসা ঘেষে একটি জরাজীর্ন বাসা নির্মান করেন। এ নিয়ে আসামীদের সাথে বাদীর স্বামীর ঝগড়া ঝাটি চলতে থাকে।

মামলার ০১নং আসামী বশির আহমদ বাদীর পার্শ্ববর্তী বাড়ীর খরিদা সূত্রে মালিক। ০১নং বিবাদী দীর্ঘদিন যাবৎ ৬-৭নং আসামী আব্দুর রকিব তুহিন ও কয়েছ আহমদ উরফে ছিটার কয়েছ এর ষড়যন্ত্র ও অপরাপর আসামীগণের সহায়তায় বাদী এবং তাহার স্বামীকে তাহাদের বসতভিটা হইতে বেদখল করার জন্য পায়তারা করিয়া আসিতেছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় এক পর্যায়ে ১নং আসামী অন্যান্য আসামীগণের সহায়তায় সিটি কর্পোরেশনের বিল্ডিং কোড অমান্য করিয়া বাদীর বসতঘরের সংলগ্ন বাদীর বাউন্ডারী ওয়ালের পর বিল্ডিং নির্মাণ করিলে তাহা দ্বারা বাদীর বাসা রকম ভূমির ক্ষতির স্থল হওয়ায় বাদীর স্বামী প্রতিবাদ করিলে ১নং আসামী বাদীর স্বামীকে হুমকি ধামকি দেন এবং বাড়াবাড়ি করিলে গুম খুনের হুমকি প্রদর্শন করেন। ১নং আসামী অন্যান্য আসামীর সহযোগীতায় বাদীর স্বামীর বাসা রকম ভূমি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি ব্যাতিরেকে এবং বিল্ডিং কোড না মানিয়া বাউন্ডারী ওয়ালের উপর বিল্ডিং নির্মাণ করায় বাদীর স্বামী প্রতিবাদ করিয়া ও কাজ না হওয়ায় বাদীর স্বামী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়ের করিলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ১নং আসামীকে বার বার নোটিশ দেওয়া সত্বেও তাহাতে কোন প্রকার কর্তপাত না করিয়া বাদীর স্বামীর বাড়ীর বাউন্ডারী অবৈধভাবে বিল্ডিং নির্মাণ করেন।

উপর বিল্ডিং নির্মাণ হওয়ায় বাদিনীর বসত ঘরসহ স্বপরিবারে লোকজন অনিরাপত্তায় আছেন। ১নং আসামীর বিল্ডিংটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়ে যাওয়ার আশংকা বিদ্যমান। বর্তমানে এই অবৈধ বিল্ডিংটি অল্প অল্প করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে বাদীর বসত ঘরের উপর। বাদী ও বাদীর পরিবার পরিজন এই বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়ায় দিন রাত আতংকের মাধ্যমে জীবন যাপন করা লাগে । 

১নং আসামী কর্তৃক অবৈধভাবে বিল্ডিং নির্মাণের জন্য বাদীর স্বামী প্রতিবাদ করায় বিগত ১৬/১২/২০১৪ ইং রাত অনুমান ১২.২০ ঘটিকার সময় ১নং আসামী বশিরের নেতৃত্বে সমূহ আসামীগণ দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রসস্ত্র রামদা, লাঠি, লোহার রড হকিস্টিক সহ বেআইনী জনতাবন্ধে মিলিত হইয়া বাদী ও তাহার স্বামীর বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করিয়া বাদীর স্বামীকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর আঘাত করিতে উদ্ধত হইলে বাদীনি তাহার স্বামীকে রক্ষা করিতে সামনে আগাইয়া আসিলে ০১নং আসামী বশির আহমদ প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে ০৭ (সাত) মাসের অন্তস্বত্তা বাদীর তলপেটে স্বজোরে লাথি মারিলে বাদী ঘরের মেঝেতে পড়িয়া যায়।

তাৎক্ষণিকভাবে বাদীর স্বামী মোঃ জুবের আহমদ (সাকু) বাদীনিকে রক্ষার্থে আগাইয়া আসিলে। সমূহ আসামীগণ বাদীনির স্বামী ও বাদীনিকে লাঠি ও লোহার রড দিয়া এলোপাতাড়ী আঘাত করিয়া নীলাফুলা জখম করে। অপর দিকে ১নং আসামীর হুকুমে অন্যান্য আসামীগণ সহ অপরাপর আসামীগণ লাঠি, লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়া এলোপাতাড়ী বাইড়াইয়া বাদীর ঘরের সম্পূর্ণ আসবাবপত্র ভাংচুর করিয়া ২,৭৫,০০০/- (দুই লক্ষ পচাত্তর হাজার) টাকার ক্ষতিসাধন করে। ০২নং আসামী মনজুর রহমান বাদীর সুকেসে থাকা নগদ ৩৫,০০০/- (পয়ত্রিশ হাজার) টাকা চুরি করিয়া নিয়া যায়। এমতাবস্থায় বাদী ও তাহার স্বামীর শোর চিৎকারে সাক্ষীগণ আগাইয়া আসার পর সাক্ষীগণের সম্মুখে ০১নং আসামী সহ অপরাপর আসামীগণ বাদী ও তাহার স্বামীকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়া চলিয়া যায় ।

এমতাবস্থায় বাদীর তলপেটে ১নং আসামীর স্ব- জোরে লাথির কারণে বাদীর যৌনাঙ্গ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হইলে সাক্ষীগণের সহায়তায় বাদীর স্বামী বাদীকে সি.এন.জি অটোরিক্সা যোগে চিকিৎসার জন্য সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে বাদীনির ০৭ (সাত)) মাসের একটি মৃত ছেলে সন্তান পরবর্তীতে বাদীণী ও বাদীর স্বামী উক্ত বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় মুরব্বীয়ান এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিন সহ এলাকার কতিপয় সালিশান বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মীমাংসা করিয়া দিবেন বলিয়া বাদী ও তাহার স্বামীকে মামলা দায়ের হইতে বিরত রাখে, কিন্তু দীর্ঘদিন হইলেও কাউন্সিলর সহ স্থানীয় মুরব্বীয়ান ও সালিশানগণ বিষয়টি মীমাংসা করিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিগত ২৫/০৪/২০২৪ ইংরেজী তারিখ সকাল অনুমান ৯.০০ ঘটিকার সময় বাদীর স্বামীকে আপোষ মীমাংসার ব্যর্থতার কথা জানাইয়া আদালতের শরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় বাদী দীর্ঘ বিলম্বে বিজ্ঞ ন্যায় বিচার আদালতে আসিয়া অত্র মামলাটি দায়ের করিলেন।

মামলার আসামীরা হলেন, বশির আহমদ (৬০),  মনজুর রহমান মনজুর (২৭), সাইদুর রহমান সাইদ, মিজানুর রহমান মিজান, সালমা বেগম (৪৫),  কয়েছ আহমদ, আব্দুর রকিব তুহিন (৫০), মুশাহিদ আলী (৬০),  মামুন উদ্দিন মামুন (৩৬), ইব্রাহিম চৌধুরী আদহাম (২৮), সালেহ আহমদ ছালিক (৫৫), আব্দুর রহিম (৫০)।


মন্তব্য