গরু বিক্রি করে মা-বউসহ ওমরায় যেতে চান মালিক

গরু
  © ফাইল ফটো

ফরিদপুরের সদরপুরে কুরবানির জন্য প্রস্তুত ১৫ মণ ওজনের গরু ‘কালা পাহাড়’। সাড়ে ৫ ফুট লম্বা বিশাল আকৃতির এ গরুটির ওজন প্রায় ১৫ মণ। ‘কালা পাহাড়কে’ কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন পাইকাররা। গরুর মালিক ১২ লাখ টাকা দাম চাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত দাম উঠেছে ১০ লাখ টাকা। এই গরু বিক্রি করে মা-বউকে সঙ্গে নিয়ে ওমরা করতে চান মালিক।

জানা যায়, প্রতিদিন ‘কালা পাহাড়’ ঘাস, খড় ও ভুসিসহ মোট ১৫ কেজি খাবার খায়। বর্তমানে এর বয়স প্রায় দুই বছর। গরুর মালিক তার গরুটিকে যত্ম করে ঘরের ভেতরেই পালন করেছেন। লোকবলের অভাবে বিশাল গরুটিকে ঘর থেকে বের করা সম্ভব হয় না। এবার কুরবানির ঈদে ‘কালা পাহাড়কে’ ১২ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন মালিক। 

গরুর পরিচর্যাকারী হামিদ শেখ জানান, অনেক আদর করে কালা পাহাড়কে লালন-পালন করা হয়েছে। কালা পাহাড়কে আদর করলে খুশি হয়। তাকে ভালোবাসলে সেও ভালোবাসে, আর ভালো না বাসলে লাথি-গুঁতা দেয়। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত আমি ‘কালা পাহাড়কে’ দেখাশোনা করি।

তিনি আরও জানান, তবে ঘর থেকে গরুটি খুব কম বের করতে পারেন।  ১০ দিন ধরে গরুটিকে ঘর থেকে বের করা হচ্ছে। কারণ গরুটি বের করতে হলে ৫ থেকে ৭ জন লোক লাগে। তাই প্রায় এক বছর ধরে ঘরের ভেতরে রেখেই গরুটি লালন-পালন করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত গরুটিকে ক্রয়ের জন্য ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসছেন।

গরুর মালিক ব্যবসায়ী আবুল মুন্সী জানান, তিনি গরুর খামারি নন। শখ করে পালন শুরু করেন এ গরুটি। যখন জানতে পারেন এটি বড় জাতের গরু, তখন তিনি নিয়ত করেন এ গরু বড় করে বিক্রি করবেন। 

তিনি জানান, ‘কালা পাহাড়কে’ বিক্রি করে যে টাকা হবে তা দিয়ে মা ও বউকে নিয়ে ওমরা যাবেন। আর এ জন্য গরুটিকে মোটাতাজাকরণের জন্য কোনো প্রকাশ ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। এবার কুরবানির ঈদে কালা পাহাড়কে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করার আশা করা হচ্ছে।

সদরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আসজাদ বলেন, উপজেলার বড় একটি ষাঁড় ‘কালা পাহাড়’। প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে ষাঁড়টি বড় করেছেন মালিক। আশা করছি কুরবানির পশুর হাটে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ উপজেলায় ৯০৭টি খামারে ছোট বড় মাঝারি আকারের ব্রাহামা, হলেস্টাইন ফ্রিজিয়াম, জার্সি, ব্রাউই সুইট, নওরেজিয়ান রেড, লাল-সাদা হলেস্টাইন ও দেশিসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ২ হাজার ৪৩০ ষাঁড়, ১৩৫ গাভী, ১০ হাজার ৮৬০ ছাগল ও ১৫ ভেড়াসহ মোট ১৩ হাজার ৪৪০টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ পশুগুলো বিক্রি হবে।


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ