কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে মোটরসাইকেল চুরি!

চট্টগ্রাম
  © সংগৃহীত

মোটরসাইকেল চুরির একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম পুলিশ। চট্টগ্রাম কারাগারে পরিচয়। সেখানে পরিকল্পনা করেন জামিনে বেরিয়ে মোটরসাইকেল চুরি করবেন। সেই চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। 

সম্প্রতি নগরের কাজীর দেউড়িতে একটি মার্কেটের পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল চুরির সূত্র ধরে শ্রাবণ নামের এক যুবককে শনাক্ত করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার নগরের মাছুয়াঝর্ণা এলাকা থেকে ওই যুবককে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আরও তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। চক্রটি নগরীর কাজীর দেউড়ি ভিআইপি টাওয়ার, বহদ্দারহাট, বন্দর ও আনোয়ারা উপজেলা থেকে গত ১০ দিনে এই চারটি মোটরসাইকেল চুরি করে বলে পুলিশের ভাষ্য। 

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- আবিদ হোসেন শ্রাবণ (২০), আজিজুর রহমান (২৪), মো. রাফি (৩১), আব্দুল্লাহ আল আবেদ ওরফে তুহিন (২৪), শাহাদাত হোসেন ওরফে খোকা (২৪) ও জমির হোসেন (২০)। 

আজ শনিবার (০৮ জুন) চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওবায়েদুল হক বলেন, আট মাস আগে আজিজ একটি অপহরণ মামলায় জেলহাজতে ছিলেন। সেখানে থাকাকালে আসামি আবিদ হোসেন শ্রাবণের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে উঠে। শ্রাবণ মোটরসাইকেল চুরির চক্রের হোতা ছিলেন। শ্রাবণের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে জামিনের ব্যবস্থা করিয়ে দেওয়াসহ সব যাবতীয় দায়ভার নিয়েছিল আজিজ। বিনিময়ে শ্রাবণ জামিনে বেরিয়ে যত মোটরসাইকেল চুরি করবে সবগুলো আজিজকে সরবরাহ করবে বলে এমন পরিকল্পনা হয় দুজনের মাঝে। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজিজ দুই মাস আগে আর শ্রাবণ ১০–১২ দিন আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়। জামিনের যাবতীয় খরচ বহন করার পাশাপাশি শ্রাবণকে মোটরসাইকেল চুরির জন্য ১০ হাজার টাকা অ্যাডভান্স হিসেবে দিয়েছিল আজিজ। 

এরপর শ্রাবণ কোতোয়ালিসহ আশপাশের এলাকায় ১০–১২ দিনে চারটি মোটরসাইকেল চুরি করে আজিজ ও তাঁর বন্ধু রাফির কাছে হস্তান্তর করে। আজিজ ও রাফি শ্রাবণের কাছ থেকে চোরাই মোটরসাইকেল নেওয়ার পর তুহিনের মারফত রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকার খোকা নামে আরেকজনের কাছে পাঠান। খোকা প্রতি বাইকে ১০ হাজার টাকা লাভ ধরে জমিরের কাছে বিক্রি করেন। আর জমির মোটরসাইকেলগুলো বৈধ মোটরসাইকেল বলে স্থানীয়দের কাছে বাজারমূল্যে বিক্রি করেন। 

অভিযান পরিচালনাকারী চট্টগ্রামের উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন বলেন, শ্রাবণের দেওয়া তথ্যে পুলিশ কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে আজিজ ও রাফিকে আটক করে। এরপর রাউজানের নজু মিয়া হাট থেকে তুহিন ও খোকাকে আটকের পর রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মুরাদনগর থেকে জমিরকে আটক করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ বলছে, মুরাদ মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন, চেসিস নম্বর মুছে পুরোনো বলে সাধারণ লোকজনের কাছে বিক্রি করেন। গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলার পর গতকাল শুক্রবার তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য