‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দুঃখজনক’

মুক্তিযোদ্ধা
  © ফাইল ছবি

মহান মুক্তিযুদ্ধের এতো বছর পরে এসেও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততিদের কোটার প্রশ্নে কিছু মানুষের ক্রোধ প্রকাশকে দুঃখজনক। মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি প্রতিপালনে অনেকক্ষেত্রে রাষ্ট্র অমনোযোগি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

শনিবার (৮ জুন) চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম হলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী ‘ভূমিসেবা সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় কোটা বিষয়ে উচ্চ আদালত যে রায় ও নির্দেশনা দিয়েছে তার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী।

জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ভূমিসেবা সপ্তাহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম, সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়।

এর আগে গত পাঁচ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে ২০১৮ সালের চার অক্টোবর জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এর ফলে এই দুই শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ শতাংশ কোটা বহাল থাকবে।

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ সালের পাঁচ নভেম্বর এক নির্বাহী আদেশে সরকারি, আধাসরকারি, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয়করণ করা প্রতিষ্ঠানে জেলা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়।

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ শতাংশ কোটা থাকছেসরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ শতাংশ কোটা থাকছে সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি ৩০ শতাংশ, প্রতিবন্ধী এক শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, পশ্চাৎপদ জেলাগুলোর জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাঁচ শতাংশ মিলিয়ে শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা পদ্ধতি চালু ছিল।

কোটা বাতিলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ২০১৮ সালের তিন অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখে সরকার।


মন্তব্য