ধান লাগালেন কৃষক, কেটে বেচে দিলেন ইউএনও

ধান
  © সংগৃহীত

বছরের পর বছর ধরে জমি চাষ করে আসছিলেন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার চক বাজিতপুর এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক। তার বাবা বজলার রহমানের লিজ নেওয়া দুই একর ৪২ শতক (৫ বিঘা) জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন তারা।

এ বছরও সেই জমিতে ধান রোপণ করলেও পাকা ধান ঘরে তোলা হলো না কৃষক আব্দুর রাজ্জাকের!

গত মঙ্গলবার (৪ জুন) ওই কৃষকের চাষ করা পাঁচ বিঘা জমির ধান কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম। জমি থেকে পাওয়া ১০৫ মণ ধান ৬১০ টাকা দরে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। যদিও প্রতি মণ ধানের বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

জানা গেছে, ১৯৬৩-৬৪ অর্থবছরে আব্দুর রাজ্জাকের বাবা বজলার রহমানকে দুই একর ৪২ শতক জমি লিজ দেয় তৎকালীন দিনাজপুর জয়েন্ট কালেক্টর অব রেভিনিউ। সেই সময় থেকেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা সরকারকে খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে জমিটি ভোগ-দখল করে আসছেন। কিন্তু ২০১২ সালে ওই জমিতে চাষাবাদে বাধা দিলে আদালতের শরণাপন্ন হন বজলার রহমানের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক। ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর উচ্চ আদালত ওই জমিতে এক বছরের স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।

এরপর প্রশাসনের মৌখিক আদেশে জমিতে বোরো ধান রোপণ করেন আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু ধান ঘরে তোলার আগেই কেটে নিয়ে গেছে প্রশাসন। প্রশাসন ধান রোপণ, সেচ ও নিরানি দেওয়া, কীটনাশক ও সার প্রয়োগের সময় কোনো বাধা না দিলেও তাকে কোনকিছু না জানিয়ে জমির ধান কেটে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খুব কষ্ট করে ধান আবাদ করেছি। প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে রোপণ করেছি। আমি এসিল্যান্ড ও ইউএনও’র কাছে গেছি। কারও কাছে বিচার পাইনি। ইউএনও আমার ধানগুলো কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। ধান আবাদ করতে গিয়ে আমি ঋণগ্রস্ত হয়ে আছি। এখন আমার কাছে কোনো কিছুই নাই! এসিল্যান্ডের অনুমতি নিয়ে ধান রোপণ করেছি। এত দিন তারা কোনো কিছু বলল না, আজকে আমার জমির ধান কেটে বিক্রি করে দিল! এই জমি থেকে আমার ২৫০ মণ ধান আবাদ হয়। আমার অনুপস্থিতিতে ইউএনও ধান কেটে নিল!

স্থানীয় বাসিন্দা আক্তারুল আলম বলেন, সকালে পাশের জমিতে ধান কাটছিলাম। এ সময় প্রশাসনের লোকজন ৩টি হারভেস্টার মেশিন এনে আব্দুর রাজ্জাকের জমির ধান কেটে নেয়। এরপর নিলামে বিক্রি করে দেয়। এই জমিতে রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছে। তার বাবা প্রশাসনের কাছ থেকে লিজ নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসন কী কারণে ধানগুলো কেটে নিল, আমরা তো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না!

কাহারোলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বোরহান উদ্দীন বলেন, জমির ধান কাটার বিষয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। জমি থেকে মোট ১০৫ মণ ধান পাওয়া গেছে। সেখানে উন্মুক্ত নিলামে ৬৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুয়া দলিল করে জমিটি ভোগদখল করছে ওই কৃষক পরিবার। তারা নিম্ন আদালতে নিষেধাজ্ঞার জন্য দুই বার আবেদন করেছিল। কিন্তু দুই বারই তাদের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। পরে তারা হাইকোর্টে গেছে, সেখানেও হয়নি।


মন্তব্য