সেন্ট মার্টিন ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল

১০ হাজার মানুষের জন্য থাকছেন একজন চিকিৎসক! 

সেন্টমার্টিন
সেন্টমার্টিন ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল  © টিবিএম

মিয়ানমারে সংঘাতের জেরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে নৌ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে বিকল্প রুটে সীমিত পরিসরে চলছে নৌযান। এরই মাঝে মধ্যে সেন্টমার্টিন ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এনজিও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া না হলে প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ পাওয়া তিন চিকিৎসকসহ কাউকেই আর পাওয়া যাবে না জুন মাসের পর। থাকবেন একজন চিকিৎসকসহ চারজন স্বাস্থ্যকর্মী। এ পরিস্থিতিতে দ্বীপটির চিকিৎসা সেবা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে বসবাসরত মানুষের সংখ্যা ১০ হাজারের মতো। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়নের মর্যাদা নিয়ে আছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি। সেন্টমার্টিন ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় দ্বীপটিতে।

বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচল করে টেকনাফ থেকে নাফ নদী দিয়ে। নাফ নদীর এক পাশে বাংলাদেশ, আরেক পাশে মিয়ানমার। মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাতের মধ্যে গত কিছু দিন ধরে নাফ নদীতে চলাচলরত নৌযান লক্ষ্য করে গোলা ও গুলিবর্ষণ হচ্ছে ওপার থেকে। সেই কারণে দ্বীপবাসী যেমন খাবার সংকটে পড়েন, তেমনি যাওয়া-আসাও বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০ শয্যার হাসপাতালে সরকারি একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন মিডওয়াইফ এবং ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মাত্র একজন অফিস সহায়ক কর্মরত। এতো কম সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ২০২০ সালের মার্চ মাসে ‘স্বাস্থ্য ও লিঙ্গ সহায়তা প্রকল্পের’ মাধ্যমে ১৬ জন এনজিও কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন চিকিৎসক।

সেই এনজিও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন। সেদিন থেকে এনজিওর নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকার কথা নয়। তখন থাকবেন মেডিকেল অফিসারসহ চারজন। এ পরিস্থিতি হলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় রুদ্র জানিয়েছেন, টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী বাহিনীর দ্বন্ধের কারণে প্রায়ই মর্টার শেল ও গুলির শব্দ শোনা যায়। মাঝেমাঝে ওপারের গুলি নাফ নদীতেও পড়ে। নাফ নদী দিয়ে সেন্টমার্টিন যাত্রার সব নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প পথে সীমিত পরিসরে নৌযান চলছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের মতো খাদ্য ও ঔষধ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে খাদ্যদ্রব্য ও ঔষধপত্রের কিছুটা অভাব রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জুন এনজিওর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে দ্বীপে কর্মরত এনজিওর ১৬ জন জনবল থাকবে না। এতে চিকিৎসাসেবায় বিপর্যয় নেমে আসবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে অবহিতও করা হয়েছে।

ডা. প্রণয় রুদ্র জানান, দ্বীপটি স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র অবলম্বন সেন্টমার্টিন ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধারাবাহিকতা না থাকলে জরুরি চিকিৎসাসেবায় বিপর্যয় ঘটবে। তাই জরুরিভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ আহমেদ হাওলাদার বলেন, “৩০ জুন এনজিওর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি সরকারের সব মহলে অবহিত। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা ভালো সংবাদ পাওয়া যাবে।”

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, দ্বীপের হাসপাতালে অনেকটা প্রাথমিক চিকিৎসাই দেওয়া হয়। একটু জটিল হলেই দ্রুত টেকনাফ বা কক্সবাজারে নিয়ে যেতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে সেন্টমার্টিনে যারা আছেন তারা না থাকলে প্রাথমিক চিকিৎসাও পাওয়া যাবে না।


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ