রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে প্রাণ গেল ২ জনের!

রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়া  © টিবিএম

সপ্তাহ ব্যাপী ভারী বর্ষণ, ক্যাম্পে বেড়েছে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা। একমাসে পাহাড়ধ্বসে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ জন ঝুঁকিতে সময় পার করছে রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা ১৩ লাখ রোহিঙ্গার অধিকাংশই রয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ শরণার্থী শিবিরে। সেখানে বিভিন্ন পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করেছে রোহিঙ্গারা। এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে উখিয়া-টেকনাফে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে বৃষ্টিতে বাড়ছে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও পাহাড়ের পাদদেশে দেশ থেকে সরে যাচ্ছেন না রোহিঙ্গারা। এদিকে ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবারে ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধ্বসে দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্য একজন শিশুও রয়েছে। এতে আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এর আগে গত ১৯ জুন উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধ্বসে ১১ জন নিহত হয়েছিলেন। সবমিলিয়ে একমাসের মধ্যে পাহাড়ধ্বসে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ জন।

সর্বশেষ যে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে তা বুধবার (৩ জুলাই) ভোররাতে উখিয়ার ক্যাম্পের-৮ ও ৯-এ এ ঘটে। এ ঘটনায় যে দুইজন প্রাণ হারিয়েছে তারা হলেন স্থানীয় শিশু সিফাত উল্লাহ (১৪) ও রোহিঙ্গা যুবক আনোয়ার হোসেন(২১)।

শিশু সিফাত ক্যাম্প-৮ ইস্ট’র ব্লক ৪১’র নানার বাড়িতে বেড়াতে গেলে জুমেরছড়ায় পাহাড় ধ্বসের মাটিচাপা ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হয়। অপরদিকে একইরাতে বালুখালী ক্যাম্প-১১ মরা গাছতলা নামক এলাকায় পাহাড় ধ্বসে আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। সে ওই ক্যাম্পের এফ-১ ব্লকের দিল মোহাম্মদের ছেলে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ওসি মো. শামীম হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে ২ জনের মধ্যে একজন স্থানীয়। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।

১৭ নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা বাসিন্দা মোহাম্মদ সলিম বলেন, ভারি বর্ষণে ক্যাম্পে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। অধিকাংশ ঘরে পানি ঢুকছে। আমাদের কষ্টের শেষ নেই।

আরেক রোহিঙ্গা বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, ‘ক্যাম্পে পাহাড়ের পাদদেশে অধিকাংশ রোহিঙ্গাদের বসতি। ফলে ভারী বৃষ্টিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। নিরুপায় হয়ে রোহিঙ্গারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এভাবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে না নিলে ক্যাম্পে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয়রা বলছে- রাস্তায় ও খালে-বিলে পানি থৈ থৈ করছে। পানিবন্দি অধিকাংশ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র এবং আত্নীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান তারা। এদিকে উপজেলা প্রশাসন বলছে, টানা এক সপ্তাহ ব্যাপী বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা বেড়েছে। স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের সচেতন ও সতর্ক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তানভীর হোসেন।

তিনি বলেন, উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টি হচ্ছে। ওই সময় পাহাড়ি ঢল ও বন্যার আশঙ্কায় মাইকিং করা হয়েছে। স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতি ও জানমাল রক্ষায় সচেতন বিভিন্ন এনজিওদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও মাইকিং করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমেও মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। 


মন্তব্য