জামাতাকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন শ্বশুর-শাশুড়ি ও খালা শাশুড়ি

ফাঁসানো
  © প্রতীকী ছবি

নিজের মেয়েকে লুকিয়ে পাচার, হত্যা ও গুমের মিথ্যা মামলা করে জামাতাকে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ফেঁসে গেলেন শ্বশুর, শাশুড়ি ও খালা শাশুড়ি। পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উঠে এসেছে এই মিথ্যা মামলার ঘটনা।

মিথ্যা মামলা দিয়ে জামাতাকে ফাঁসানোর এই আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায়। 

শ্বশুর–শাশুড়িরা হচ্ছেন, উপজেলার চন্দ্রলাড়া গ্রামের আব্দুল খালেক, তার পত্নী রোকেয়া আক্তার, একই গ্রামের আঙ্গুরা আক্তার। 

জামাতা হলেন, উপজেরার নওপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বিদ্যা মিয়া। তার পত্নী আব্দুল খালেকের মেয়ে রিয়া আক্তার। বিদ্যা মিয়া ও রিয়া আক্তার দম্পতির ৫ বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকার তুরাগ থানা এলাকার শহিদুল্লাহর বাসা থেকে রিয়া আক্তারকে উদ্ধার করে পিবিআই। আজ বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে শহরের কাটলি এলাকায় জেলা পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে জেলা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির এসব তথ্য জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবীর বলেন, ‘গত ২৩ এপ্রিল স্বামী বিদ্যা মিয়া তার স্ত্রী রিয়াকে অজ্ঞাত স্থানে পাচারের পর হত্যা করে গুম করেছে মর্মে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন রিয়ার বাবা আব্দুল খালেক। আদালত পিবিআইকে তদন্তভার দিলে তথ্যপ্রযুক্তি সাহায্যে রিয়াকে উদ্ধার করা হয়। পরে রিয়া ও তুরাগ এলাকার বাসার মালিক শহীদুল্লাহর স্ত্রী আলেয়া আক্তার এই সাজানো মামলার ঘটনার পুরো বর্ণনা দেন পুলিশের কাছে।’
 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির আরও বলেন, ‘ঠিক কী নিয়ে বিরোধ থেকে জামাতার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন শ্বশুর আব্দুল খালেক তা এখনও স্পষ্ট না। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা— অর্থনৈতিক বা অন্য কোনো কারণেই তাদের মাঝে বিরোধ চলে আসছিল। তবে নানা দিক মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে। শ্বশুর আব্দুল খালেক একটি হত্যা মামলায় সাত বছর জেল খেটেছেন। গত প্রায় দেড়মাস ধরে আব্দুল খালেক ও তার স্ত্রী লুকিয়ে রাখা তাদের মেয়ে রিয়ার সঙ্গে ফোনালাপ করে আসছিলেন। গত ১৫ দিনে তারা রিয়ার সঙ্গে ২২ বার ফোনালাপ করেছেন। এরই সূত্র ধরে আমরা তদন্ত কাজে এগিয়ে যাই।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা পিবিআইযের উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. আমিনুজ্জামান বুধবার রিয়া আক্তার ও আলেয়া আক্তারকে নেত্রকোণা বিচারিক আদালতে সোপর্দ করেন। আদালতে তারা জবানবন্দি দেন।

মিথ্য মামলার ঘটনা সামনে আসার পর বিদ্যা মিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও খালা শাশুড়ির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাল্টা মামলা হয় কেন্দুয়া থানায়। এই মামলায় রিয়া আক্তারকে স্বাক্ষী করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুজ্জামান জানান, রিয়া আক্তার উদ্ধারের পর থেকে তার বাবা, মা ও খালা পলাতক রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।


মন্তব্য