রডের বাজারে অস্থিরতা, নির্বাচনের পর দাম বেড়েছে টনপ্রতি ৪ হাজার টাকা

নির্বাচনে
  © সংগৃহীত

নির্বাচনের পর থেকে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এমএস (মাইন্ড স্টিল) রডের দাম টনপ্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা বেড়েছে। উৎপাদনকারীরা এর জন্য গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দর বৃদ্ধি এবং ডলার-সংকটের কারণে কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন।

ইস্পাত কারখানাগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে ৭৫ গ্রেডের প্রতি টন এমএস রড বিক্রি হচ্ছে ৯৩ থেকে ৯৫ হাজার টাকা দামে। যা নির্বাচনের আগে ছিল টনপ্রতি ৯০ থেকে ৯১ হাজার টাকা। ৭৫ গ্রেডের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রডের মধ্যে বর্তমানে প্রতি টন বিএসআরএম ৯৫ হাজার টাকা, জিপিএস ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা, কেএসআরএম ও একেএস ৯৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নির্বাচনের আগে বাজারে প্রতি টন বিএসআরএম ৯১ হাজার ৫০০ টাকা, জিপিএস ৯০ হাজার ৫০০ টাকা এবং কেএসআরএম ও একেএস ৯০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হতো।

আরও পড়ুন: রশিদপুরে নতুন গ্যাসকূপ, দৈনিক মিলবে ৮০ লাখ ঘনফুট

ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে এখনো অনেক সরকারি প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শুরু হয়নি। এছাড়া বেসরকারি বড় আবাসন-বাণিজ্যিক প্রকল্পের কাজও অনেকটা স্থবির। তারা বলছেন, রডের চাহিদা ও বিক্রি দুটিই বর্তমানে কম।

দেশের রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সূত্রে জানা গেছে, ইস্পাত খাত এখন সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের বুকিং দর বৃদ্ধি, ডলার-সংকটের কারণে পর্যাপ্ত আমদানি না হওয়ার কারণে ইস্পাতের কাঁচামালের দাম টনপ্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

চাহিদা অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে গিয়ে তিন গুণ বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। নির্মাণ মৌসুম শুরু হলেও এ বছর রডের চাহিদা ও বিক্রি খুবই কম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে এই শিল্পে সংকট লেগে আছে। ডলার-সংকটের কারণে এখন চাহিদা অনুযায়ী, ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে না। ফলে ইস্পাতের কাঁচামাল আমদানি চাহিদার তুলনায় কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। সহসা এই সমস্যা না কাটলে কয়েক মাস পর কাঁচামালের তীব্র সংকট হতে পারে বলে মনে করেন উদ্যোক্তা- ব্যবসায়ীরা।

গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৯৬৯ মেট্রিক টন। এর আগে নভেম্বরে ৫৪ হাজার ১৩৮ মেট্রিক টন, অক্টোবরে ৪৮ হাজার ৩৫৬ মেট্রিক টন, সেপ্টেম্বরে ২১ হাজার ১০৭ মেট্রিক টন এবং আগস্টে ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করা হয়েছিল।

এদিকে আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটে ইস্পাত তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল স্ক্র্যাপ, প্লেট ও বিলেটের দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে এসব কাঁচামালের দাম টনে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে ইয়ার্ডে প্রতি টন স্ক্যাপ ৬৩ হাজার টাকা, প্লেট ৭৫ হাজার টাকা এবং বিলেট ৭৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ স্ক্র্যাপ ৫৫ হাজার টাকা, প্লেট ৬৫ হাজার টাকা এবং বিলেট ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।


মন্তব্য