দেশে ব্রাহামা গরু আমদানি নিষিদ্ধ যে কারণে

ব্রাহামা গরু
  © ফাইল ছবি

সম্প্রতি ছাগলকাণ্ডে আলোচনায় আসে সাদেক এগ্রো ফার্ম। প্রতিষ্ঠানটির বংশ মর্যাদাসম্পন্ন গরুর বিজ্ঞাপনে সবার নজর কাড়ে বিশাল আকারের ব্রাহামা গরু। কয়েক বছর আগে জালিয়াতি করে এ জাতের গরু আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। তারপরই আলোচনায় উঠে আসে কোটি টাকা দামের এসব গরু। 

২০১৬ সালের এক নীতিমালায় ব্রাহামা জাতের গরু আমদানি নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে আমদানি নিষিদ্ধ হলেও এ জাতের গরু বাংলাদেশে উৎপাদন ও পালন একেবারেই বৈধ। তবে ঠিক কী কারণে ব্রাহামা গরু বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ তাই উঠে এসেছে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে।

ব্রাহমা গরু মূলত এর উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীলতা, দীর্ঘ জীবন এবং ক্রস-ব্রিডিংয়ে উচ্চফলনের জন্য বেশি জনপ্রিয়। সাধারণত একটি পূর্ণবয়স্ক ব্রাহামা ষাঁড়ের ওজন ৮০০-১০০০ কেজির বেশি হতে পারে, আর একটি পূর্ণবয়স্ক ব্রাহামা গরুর ওজন হবে ৫০০-১০০০ কেজি। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় ব্রাহামা গরু সুস্থ-স্বাভাবিক থাকতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীলতার কারণে এ গরুর রোগবালাই অনেক কম হয়। সাধারণত একটি ব্রাহামা গরু ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

বাংলাদেশে মাংসের চাহিদা বাড়তে থাকায় বেড়েছে ব্রাহামা গরুর চাহিদাও। বলা হয় এ জাতের গরু পালন সহজ ও লাভজনক, আর অন্যান্য জাতের চেয়ে ব্রাহামা গরু রোগ বালাইয়ে কম আক্রান্ত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব ব্রাহামা জাতের গরু রয়েছে তার প্রায় সবই কৃত্রিম পদ্ধতিতে প্রজনন করা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার জানান, ব্রাহামা গরু মূলত মাংসের জাত বলে পরিচিত। এ গরু প্রচুর মাংস উৎপাদন করলেও তারা তার আকৃতি অনুযায়ী অনেক দুধ দেয় না। ফলে খামারিরা যদি ব্যাপক হারে ব্রাহামা উৎপাদন করে তাহলে দেশে গরুর দুধের উৎপাদন একেবারেই কমে যাবে। মূলত সেই জন্যই বেসরকারি পর্যায়ে ব্রাহামা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাহামা গরুর মাংসের স্বাদ দেশি গরুর মতো। এর গায়ে চর্বি কম হয়, যে কারণে পুষ্টিগুণ বেশি। সরকারের আশঙ্কা ব্যাপক হারে ব্রাহামা গরু উৎপাদন হলে দুধ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে খামারিরা। মূলত দেশের দুগ্ধ উৎপাদন খাতের সুরক্ষায় ব্রাহামা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ডা. ভবতোষ কান্তি জানান, সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রাহামা জাতের গরুর শুক্রাণু এনে স্থানীয় খামারিদের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে এই জাতের গরু উৎপাদন শুরু করে। ২০০৮ সালে চালু হওয়া ‘বিফ ক্যাটল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৫০টির মতো জেলায় চলছে এ কর্মসূচি।


মন্তব্য