২০২৭ সালের পর নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের আশা প্রতিমন্ত্রীর

গ্যাস
  © ফাইল ছবি

দেশের বিদ্যুৎ ও গার্মেন্টস খাতে চলছে জ্বালানি সংকট। যার কারণে কমেছে উৎপাদন। জানা গেছে, দেশে এখন গ্যাসের ঘাটতি কমপক্ষে ১০০ কোটি ঘনফুট। যা থাকবে আরও ৪ বছর। তবে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলছেন, ২০২৭ সালের পর যাতে সংকট না থাকে, সে পরিকল্পনা করছে সরকার। তিনি জানান, গ্যাসের স্থানীয় উত্তোলন এবং এলএনজি আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ বাড়বে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজস্ব গ্যাসের সম্ভাবনা থাকায় দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা থেকে সরে আসা উচিৎ।

পরিবহন, শিল্প আর বিদ্যুতে গ্যাসের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি দেশিয় গ্যাস উত্তোলন। তাই ২০১৮ সালে তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি আমদানি শুরু হয়। তবে, দুই ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি আর দেশিয় মোট ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসেও চাহিদা মিটছে না। শিল্পখাতে গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। বিদ্যুৎ খাতেও চাহিদামত গ্যাস মিলছে না।

এমন অবস্থায়, জ্বালানি বিভাগ মনে করছে, ২০২৮ সাল নাগাদ গ্যাসের চাহিদা ছাড়াবে ৬০০ কোটি ঘনফুট। নতুন দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে সরবরাহ বাড়বে ১০০ কোটি ঘনফুট। বাকিটা আসবে ১৪৬ টি গ্যাসকূপ খননের মাধ্যমে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘১৪৬ টি গ্যাসকূপ খননের কাজ চলমান আছে এখন। এর সঙ্গে আমদানি গ্যাসের মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি ২০২৭ সালের মধ্যে যাতে গ্যাসের কোনো সমস্যা না হয়। কারণ তখন ৬০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস লাগবে।’

কাতারের সঙ্গে চলমান চুক্তির আওতায় বছরে ২৫ লাখ টন পর্যন্ত এলএনজি আসছে। আরেক চুক্তির মাধ্যমে ২০২৬ সাল থেকে মিলবে আরো ১৮ লাখ টন। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমদানি নয়,  স্থানীয় গ্যাসে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, ‘দেশিয় এবং আমদানি দুটো উৎস এক সঙ্গে চালিয়ে গিয়ে পর্যায়ক্রমে আমদানি কমিয়ে দিয়ে দেশিয় উৎসকে বাড়িয়ে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব যখন আমরা পুরোটা দেশিয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব। কারণ আমরা জানি বাংলাদেশ একটা গ্যাস সমবৃদ্ধ এলাকা।’

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, স্থলভাগে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ আছে ৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। তবে, পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থলভাগে এবং সমুদ্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনাবিষ্কৃত গ্যাস মজুদ আছে।


মন্তব্য