বাংলাদেশ থেকে ৭১ লাখের অধিক ভিডিও সরিয়েছে টিকটক; বিশ্বজুড়ে ১৬ কোটি

টিকটক
  © ফাইল ছবি

জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক। চলতি বছর বিশ্বজুড়ে টিকটক তার প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৬ কোটি ৬৯ লাখ ৯৭ হাজার ৩০৭টি ভিডিও সরিয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশের রয়েছে ৭১ লাখ ৭১ হাজার ৮৩২টি ভিডিও। কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের কারণে এই ভিডিওগুলো অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টিকটক।

সম্প্রতি ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মটি। সেখানে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ১৬ কোটি ৬৯ লাখ ৯৭ হাজার ৩০৭টি ভিডিও সরিয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা ভিডিওর প্রায় ০.৯ শতাংশ। যার মধ্যে ১২ কোটি ৯৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৩টি ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত এবং অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ৬০ লাখ ৪২ হাজার ২৮৭টি ভিডিও যাচাই-বাছাই করে প্ল্যাটফর্মে পুনরায় রাখা হয়েছে।

স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে, টিকটক এবার প্রথমবারের মতো কমেন্টের সেফটি টুলসগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে সরানো এবং ফিল্টার করা কমেন্টের পরিমাণ প্রকাশ করেছে। টিকটক কমেন্টের সেফটি টুলসের মাধ্যমে এই তিন মাসে ৯৭ কোটি ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৬টি কমেন্ট সরিয়েছে এবং ফিল্টার করেছে। যা পোস্ট করা সকল কমেন্টের ১.৬ শতাংশ। এছাড়া, এই টুলস ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মের ক্রিয়েটররা ৩৩৮ কোটি ১৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭২২টি কমেন্ট ফিল্টার বা অপসারণ করেছে। এটি প্ল্যাটফর্ম কমিউনিটির মান বজায় রাখার জন্য টিকটকের সক্রিয় প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে।

এদিকে বাংলাদেশে, ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের কারণে ৭১ লাখ ৭১ হাজার ৮৩২টি ভিডিও অপসারণ করেছে টিকটক। যেখানে সক্রিয়ভাবে অপসারণের হার ছিল ৯৯.৪ শতাংশ এবং একটি ভিডিও পোস্ট করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ভিডিওগুলোর ৯৪.০ শতাংশ ভিডিও সরিয়ে নেয়া হয়। এছাড়া, তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অ্যাকাউন্ট সরিয়েছে টিকটক। এর আওতায় ১৩ বছরের কম বয়সী ইউজার হওয়ার সন্দেহে বিশ্বজুড়ে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪১৪টি অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে। 

টিকটকের কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন করা কনটেন্টগুলো শনাক্ত করতে, মূল্যায়ন করতে এবং এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সমন্বয় করা হয় উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও কর্মীদের। পর্যায়ক্রমিকভাবে টিকটকের প্রকাশ করা কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট থেকে প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট আর অ্যাকাউন্টগুলোর পরিমাণ এবং ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনগুলোর   মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতার প্রতি টিকটকের প্রতিশ্রুতি এবং গুরুত্ব উঠে আসে।

২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং টিকটকের কনটেন্ট গাইডলাইনস, টুলস এবং নীতি সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন টিকটকের ট্রান্সপারেন্সি সেন্টার। বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় এটি জানা যাবে। এছাড়া, সরিয়ে ফেলা কভার্ট ইনফ্লুয়েন্স অপারেশনস (সিআইও) নেটওয়ার্কগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণীর প্রকাশ অব্যাহত রাখবে টিকটক। এতে একটি নতুন আলাদা প্রতিবেদনে ব্যাহত হওয়া অপারেশনগুলো সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।


মন্তব্য