গাজায় ফের বসতি স্থাপনের আহ্বান ১১ ইসরায়েলি মন্ত্রী ও ১৫ আইনপ্রণেতার

গাজা
  © রয়টার্স ভায়া আল জাজিরা

গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় অমানবিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। তাদের বর্বর হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৪২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৬৫ হাজারের অধিক মানুষ। বর্তমানে গাজার ২২ লাখ বাসিন্দা মানবেতর জীবনযাপন করছে। একদিকে ইসরায়েলি বোমা ও স্থল হামলা, অন্যদিকে খাদ্য সংকট। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের ১১ মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন জোট সরকারের ১৫ আইনপ্রণেতা। বসতি স্থাপন ছাড়াও কেউ কেউ গাজার ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে পাঠানোর কথাও বলেছেন। 

গতকাল রবিবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ডানপন্থি নাহালা নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জেরুজালেম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই সম্মেলনে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী ধর্মীয় জায়োনিজম পার্টির নেতা বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন, আমরা (গাজায়) বসতি স্থাপন করব এবং আমরা বিজয়ী হবো।

রবিবার সম্মেলনে ইসরায়েলের চরম উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরও উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গুশ কাতিফের বাড়িতে ফেরার সময় হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের নির্মিত বসতির নাম গুশ কাতিফ। ২০০৫ সালের চুক্তির মাধ্যমে সেখান থেকে সব বসতি সরিয়ে নিয়েছিল ইসরায়েল।

নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কার্হিও গাজায় বসতি গড়ে তোলা এবং ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এত এত মন্ত্রী-এমপি এই সম্মেলনে যোগ দিলেও এড়িয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেননি। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তিনি বলে আসছেন, গাজায় ইসরায়েল আবারও স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখতে চায় না। তবে এ উপত্যকার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের হাতে রাখার কথা বেশ জোর দিয়ে বলে আসছেন তিনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক মিত্ররা বলছে, একমাত্র দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে। এ নিয়ে বিদেশিদের কাছ থেকে চাপে থাকলেও যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ ইসরায়েলি সরকারের পরিকল্পনা খোলাসা করছেন না নেতানিয়াহু।

সূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ