স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হারলেন নওয়াজ শরিফ, এগিয়ে পিটিআই সমর্থিতরা

পাকিস্তানে
  © ফাইল ছবি

পাকিস্তানের নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই ছিল বিতর্ক। আর পশ্চিমা গণমাধ্যমে তো ভোটের আগেই বলে দেয়া হয়, নির্বাচনে জিতবেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফ। কিন্তু আলোচনায় থাকা সেই নওয়াজই হেরেছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে।

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের (৮ ফেব্রুয়ারি) সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর প্রধান নেতা নওয়াজ শরিফ মানসেহরাতে (নির্বাচনী এলাকা এনএ-১৫) স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাদা গাস্তাসাপের কাছে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। 

শাহজাদা গাস্তাসাপ ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত প্রার্থী বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আরেক সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ।  
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি নির্বাচনী এলাকা এনএ-১৫ মানসেহরা থেকে পাওয়া অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, শাহজাদা গাস্তাসাপ ৭৪ হাজার ৭১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, আর মিয়া নওয়াজ শরিফ ৬৩ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। নওয়াজ শরিফের জন্য এটিকে বেশ বড় পরাজয় বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও অন্য আরও একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। 

সামা টিভি বলছে, অপ্রত্যাশিত এই ফলাফল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর নির্বাচনী দৃশ্যপটে একটি বড় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশ্য মানসেহরাতে হারলেও লাহোরের এনএ-১৩০ আসনেও প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন নওয়াজ শরিফ। 
 
ভোট গ্রহণের ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ভোটের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেনি পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) অভিযোগ, দলটির সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী হতে দেখে দেরি করা হচ্ছে ফল ঘোষণায়। পর্যবেক্ষদের মতে, অতীতের নির্বাচনগুলোর বিবেচনায় এবারের ফল ঘোষণায় এতটা দেরি হওয়া ‘অস্বাভাবিক’।
 
পিটিআইয়ের অভিযোগ, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী হতে দেখে নির্বাচনের ফল ঘোষণায় বিলম্ব করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনের যে পর্দায় ফলাফল প্রদর্শিত হচ্ছিল তা-ও বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলটির নেতারা। 
 
কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল বলছে, ফল প্রকাশে বিলম্ব ভোট কারচুপির লক্ষণ। ষড়যন্ত্র করে জনগণের রায় বদলে ফেলার অপচেষ্টার পরিণাম ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিটিআই। 

এছাড়া স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত এখন পর্যন্ত পাওয়া অনানুষ্ঠানিক ফলাফল ইঙ্গিত করছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটে এগিয়ে রয়েছেন পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এদিকে, ফলাফল বিলম্বের জন্য ‘ইন্টারনেট সমস্যাকে’ দায়ী করেছেন পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সচিব জাফর ইকবাল। একটি নির্বাচনী এলাকার আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করার সময় এমন দাবি করেন তিনি।


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ