আমদানিকৃতদের মধ্যে ভারতের আদানির বিদ্যুতের দাম ৮১ শতাংশ বেশি

বিদ্যুৎ
  © ফাইল ছবি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ভারতের সরকারি ও বেসরকারি পাঁচটি কোম্পানি থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে। বাকি কোম্পানিগুলোর তুলনায় আদানির বিদ্যুতের দাম ৮০ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি।বিপিডিবির ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভারতের পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া, পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেড, এনভিভিএন লিমিটেড, সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং আদানি গ্রুপের আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে বিপিডিবি। এরমধ্যে ৪টি কোম্পানি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে খরচ পড়েছে ৪ দশমিক ২২ থেকে ৯ দশমিক ৯৫ টাকা। অন্যদিকে আদানির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশকে গুনতে হয়েছে ১৪ দশমিক শূন্য ২ টাকা।

গত বছর ভারতের পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি করেছে ৪টি কোম্পানির ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। আদানির ২টি কেন্দ্র থেকে কোনো বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়নি। বিদ্যুৎ আমদানি বাবদ ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার ভারতের ৫টি কোম্পানির ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করেছে। সেখানে আদানির ২টি কেন্দ্র থেকে কোনো বিদ্যুৎ না নিয়েও পরিশোধ করেছে ১৫০ কোটি টাকার বেশি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, এনভিভিএন লিমিটেড ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশে ১৮০ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ৪২৮ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ার লিমিটেড থেকে কেনা হয় ১৫৯ কোটি ৮১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ। এনভিভিএন লিমিটেডের তুলনায় আদানি গ্রুপ ২০ কোটি ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬০৬ কিলোওয়াট ঘণ্টা কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। এনভিভিএন লিমিটেডকে পরিশোধ করা হয়েছে ৭৬০ কোটি ৬৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬২ টাকা। অথচ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা আদানিকে পরিশোধ করা হয়েছে ২ হাজার ২৪১ কোটি ৪১ লাখ ১৭ হাজার ৩০৮ টাকা।

এতে আরও উল্লেখ আছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানি করা সব বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করতে গড়ে ব্যয় হয়েছিল ৬ দশমিক ১১ টাকা। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ৮ দশমিক ৭৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, দেশটি থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের দাম ৪৩ দশমিক ৫৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

এ ব্যাপারে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, আদানির সঙ্গে করা চুক্তিটিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি; যার মাশুল এখন বাংলাদেশকে দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশটির সঙ্গে প্রথম দিকে বিদ্যুৎ আমদানি করার যে চুক্তি করা হয়েছিল, সেখানে বাংলাদেশ লাভবান হয়েছিল।


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ