রাষ্ট্রীয়ভাবে ভোট চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ; পাকিস্তানে ১৪৪ ধারা জারি

পাকিস্তান
  © সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ঘোষণা করেছে যে তারা জনগণের ম্যান্ডেটের 'চুরির' বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভ করবে। দলটি শনিবার মধ্যরাতের বিবৃতি জারি করার কয়েক ঘন্টার মধ্যে, পেশোয়ার এবং করাচিতে দলীয় কর্মীরা স্লোগানে এবং দলীয় পতাকা নেড়ে সম্পূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করে।

এদিকে বিক্ষোভ-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

আজ রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সের এক পোস্টে ইসলামাবাদ পুলিশ বলেছে, কিছু মানুষ নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সরকারি অফিসের সামনে উসকানিমূলক জমায়েত করছে। পরিষ্কারভাবে বলা হচ্ছে, গণজমায়েতের জন্য উসকানি দেওয়াও এক ধরনের অপরাধ।

রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলে পুরো পাকিস্তানে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই। যদিও প্রথমে পিটিআই তাদের কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন শহরে জড়ো হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দলটি। শহরের বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হওয়ার বদলে নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও করে রাখার কর্মসূচি দেয় তারা।

গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের ভোট হয়েছে। ভোটগ্রহণের তিন দিন পর ২৬৫ আসনের মধ্যে অবশেষে ২৬৪ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। একটি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়। আর অন্য একটি আসনে ফল স্থগিত থাকার ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে ২৬৪ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৯৭ আসনে জয় পেয়েছেন ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এরপরই পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ বা পিএমএল-এন ৭৬ আসনে, পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৫৪ আসনে জয়ী হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য ছোট দল পেয়েছে ৩৭টি আসন।

ভোটের ফল ঘোষণা শেষ হওয়ায় সামনে পাকিস্তানে ৪টি ঘটনা ঘটতে পারে। সেগুলো হলো-

১। পিপিপির বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ও অন্য ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট করে সরকারে আসতে পারেন নওয়াজ শরিফ।

২। ইমরান খানের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অন্য দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

৩। জোট সরকারের প্রধান নিজ দল থেকে করার জন্য চাপ দিতে পারে পিপিপি। কেননা পিপিপি ছাড়া কোনো দলই সরকার গঠন করতে পারবে না। ইতোমধ্যে পিপিপি নওয়াজ শরিফের কাছে প্রধানমন্ত্রীর পদ দাবি করেছে বলে শোনা যাচ্ছে।

৪। দেখা গেল দেন-দরবার করে কোনো দলই জোট সরকার গঠন করতে পারল না। সে ক্ষেত্রে দেশের শাসনভার শক্তিশালী সেনাবাহিনী গ্রহণ করতে পারে। এমন ইতিহাস পাকিস্তানে রয়েছে। ফলে এমনটা ‍যদি ঘটেই তাহলে অবাক হওয়ার তেমন কিছু থাকবে না।


মন্তব্য