ফিলিস্তিনিদের জন্য পুনরায় জাতিসংঘে অর্থায়ন শুরু করছে ইতালি

ফিলিস্তিন
  © ফাইল ছবি

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায় (ইউএনআরডব্লিউএ) পুনরায় অর্থায়ন চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপের দেশ ইতালি।  ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেছেন, রোম ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘ সংস্থায় অর্থায়ন আবারও শুরু করবে। 

আজ শনিবার (২৫ মে) ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফার সাথে সাক্ষাতের সময় এ কথা বলেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তাজানি বলেন, ‘আমি মুস্তাফাকে জানিয়েছি যে-ইতালি সরকার ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য মোট সাড়ে তিন কোটি ইউরোর একটি নতুন তহবিলের ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে ৫০ লাখ ইউরো ইউএনআরডব্লিউএ-তে বরাদ্দ করা হবে।

এর আগে ইসরায়েল অভিযোগ জানিয়েছিল, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের অভিযানে ইউএনআরডব্লিউএর কয়েকজন কর্মী জড়িত ছিল। ইসরায়েলের এই অভিযোগের পর ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ ইউরোপের অনেক দেশ ইউএনআরডব্লিউএতে তাদের সাহায্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল।  

তবে অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হওয়ায় মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন এবং অন্যান্য দেশ জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিদের জন্য আবারও তাদের সাহায্য শুরু করছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার (২৪ মে) গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় সামরিক অভিযান বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দেয় জাতিসংঘভিত্তিক আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে)। জাতিসংঘের এই শীর্ষ আদালত তাদের রায়ে আরও বলে, মিসরের সঙ্গে গাজার সীমান্তে যে রাফা ক্রসিং রয়েছে, সেটাও ‘প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে’ মানবিক ত্রাণ প্রবেশের জন্য খুলে দিতে হবে।

তবে আন্তর্জাতিক আদালতের দেওয়া এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা।

সেইসঙ্গে মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, গাজায় ক্ষমতাসীন সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে ধ্বংস করা এবং গোষ্ঠীটির কব্জায় থাকা জিম্মিদের উদ্ধারে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এই আদেশ দেয় আইসিজে। তবে আইসিজের রায়ের কয়েক মিনিটের মধ্যেই গতকাল রাফায় এক শরণার্থী শিবিরে সিরিজ হামলা চালায় ইসরায়েল।

শনিবার (২৫ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিজের রায়ের পর গাজায় হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ওয়াফা নিউজ এজেন্সি ও আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গাজায় পৃথক দুই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৭ জনের বেশি।

শুক্রবার জাতিসংঘ আদালতের এই রায়ের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই রায়কে ‘ভুয়া, ভয়ানক এবং ন্যায়বিচার পরিপন্থী’ উল্লেখ করে বলা হয়, ‘প্রত্যেক দেশেরই আন্তর্জাতিক আইন ও মূল্যবোধ অনুসরণের ভিত্তিতে নিজেদের নাগরিক ও সীমানা রক্ষার অধিকার রয়েছে এবং ইসরায়েল ঠিক তা ই করছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘রাফার বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে সেখানে অভিযান চালাতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য সেখানকার শত্রু ঘাঁটিগুলোতে অভিযান চালানো। বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ক্ষতিসাধন নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির, যিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিশেষ আস্থাভাজন এবং ইসরায়েলে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শরিক রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা জাতিসংঘ আদালতের রায়কে সরকারি প্রত্যাখান করেছেন। শুক্রবার আদালতের রায়ের পর ইসরায়েলের ফার্স্ট প্রাইম মিনিস্টার ডেভিড বেন গুরিয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেছেন, ‘ইহুদিদের ভবিষ্যত ইহুদিদের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে। অ-ইহুদিদের সিদ্ধান্তের ওপর নয়।’

এর আগে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ৭ অক্টোবরের হামলার পর ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে নির্মূল করার জন্য রাফায় অভিযান চালানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ চলছে। এতে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছে ৩৫ হাজার ৮০০ জন। সেইসঙ্গে আহতের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয় এক হাজার ১৩৯ জন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র দুই সপ্তাহের লড়াইয়ে নয় লাখের বেশি ফিলিস্তিনি ঘরছাড়া হয়েছে। তারা এখন পানি, খাবার, ওষুধ এবং আশ্রয়ের অভাবে দিন কাটাচ্ছে।


মন্তব্য