মেক্সিকোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন জলবায়ু বিজ্ঞানী ক্লৌদিয়া

মেক্সিকো
  © সংগৃহীত

মেক্সিকোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন ক্লদিয়া শিনবাউম। গতকাল রবিবার (২ জুন) দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির সরকারী নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রাথমিক ফলাফলে রবিবারের নির্বাচনে শতকরা প্রায় ৫৮ ভাগ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ৬১ বছর বয়সী মেক্সিকো সিটির সাবেক এই মেয়র। 

মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। হয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অন্যতম শিরোনাম।

ক্লৌদিয়ার জন্ম ১৯৬২ সালে মেক্সিকো সিটিতে। বিজ্ঞানী মা-বাবার সন্তান ক্লৌদিয়ারও আগ্রহের বিষয় ছিল গবেষণা। ১৯৯৫ সালে এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। নিজেকে জলবায়ু বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কাজ করেছেন জাতিসংঘের জলবায়ু বিজ্ঞানীদের প্যানেল আইপিসিসিতে। ক্লৌদিয়া আইপিসিসিতে থাকাকালে সংগঠনটি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিল। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই রাজনীতির প্রতি ঝোঁক ছিল ক্লৌদিয়ার। মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনমাস ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। পরে পার্টি অব দ্য ডেমোক্রেটিক রেভোল্যুশনের (পিআরডি) সঙ্গে যুক্ত হন। ২০০০ সালে মেক্সিকো সিটির পরিবেশ সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন ক্লৌদিয়া। এরপর যুক্ত হন তিনি মেক্সিকো সিটি গভর্নমেন্টের ক্যাবিনেটে। 

২০১৪ সালে বামপন্থী দল মোরেনা পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ক্লৌদিয়া। ২০১৫ সালে তিলালপান শহরের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তবে মেক্সিকো সিটির মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে মেয়াদ শেষ না করেই তিলালপান থকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০১৮ সালে মেক্সিকো সিটির মেয়র নির্বাচিত হন ক্লৌদিয়া। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মেক্সিকো সিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করেন। 

মেক্সিকোর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদরের আর্শীবাদপুষ্ট হিসেবে পরিচিত ক্লৌদিয়া শিনবাউম। ওব্রাদর ২০১৮ সাল থেকে মেক্সিকোর ক্ষমতায়। তবে মেক্সিকোর সংবিধান অনুযায়ী একজন প্রেসিডেন্ট শুধু ছয় বছরের এক মেয়াদেই ক্ষমতায় থাকতে পারেন। তাই এ বছর তিনি আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। জনপ্রিয় এই নেতা নিজ দল মোরেনা পার্টির প্রার্থী ক্লৌদিয়াকে সর্বাত্মক সর্মথন দিয়েছেন। 

ওব্রাদর সরকারের দারিদ্র্য কমানোর প্রচেষ্টা ও বয়স্ক নাগরিকদের সহায়তা নীতি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওব্রাদর ক্ষমতায় এসেছিলেন তার অনেকটা অপূর্ণ রয়ে গেছে। সেসব পূরণের ভরসা দিয়েই ভোটারদের সমর্থন জোগাড় করেছেন ক্লৌদিয়া। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ওব্রাদরের অনেকগুলো সফল কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিজের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 

বিগত ছয় বছরে লাখো মেক্সিকান কীভাবে দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে এসেছেন, নির্বাচনী প্রচারে এসব বিষয়ের ওপরই বেশি জোর দিয়েছে মোরেনা পার্টি। তাদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি দ্বিগুণেরও বেশি করার মতো নীতির কারণে মেক্সিকোতে দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, এর পেছনে প্রবাসী মেক্সিকানদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়ে যাওয়ার মতো কারণও রয়েছে।

গতকাল রোববার মেক্সিকোতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, মেক্সিকো সিটির সাবেক মেয়র ক্লৌদিয়া ৫৮ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। মেক্সিকোর ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টের পাওয়া সর্বোচ্চ ভোটের হার এটি। নির্বাচনে ক্লৌদিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী জোছিটল গালভেজ। গালভেজের চেয়ে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ক্লৌদিয়া। 

আগামী ১ অক্টোবর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদরের স্থলাভিষিক্ত হবেন ক্লৌদিয়া শিনবাউম। সমর্থকদের প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্ট ওব্রাদরের যোগ্য উত্তরসূরী পেতে যাচ্ছে মেক্সিকো।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস


মন্তব্য