হঠাৎ বন্ধুরাষ্ট্র চীনের দূতকে তলব করে কেন প্রতিবাদ জানালো ইরান?

ইরান-চীন
ইরানের আবু মূসা দ্বীপ  © ফাইল ছবি

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আবু মূসা, গ্রেটার তুম্ব ও লেসার তুম্বের নামের তিনটি দ্বীপ। দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপগুলি নিয়ে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব। ফের দ্বীপ তিনটি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তবে ঠিক সংযুক্ত আরবের সঙ্গে নয়, এবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ইরানের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত চীনের সঙ্গে! পারস্য উপসাগরে অবস্থিত তিনটি ইরানি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে ‘ভিত্তিহীন দাবির’ প্রতি বেইজিং সমর্থন জানানোর কারণে তেহরানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পারস্য উপসাগর বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ আলিবাক গতকাল রবিবার (০২ জুন) চীনা রাষ্ট্রদূত চং পিউকে তলব করেন।

সম্প্রতি চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক যৌথ ঘোষণায় ওই তিন দ্বীপের মালিকানা নিয়ে আবু ধাবির ভিত্তিহীন দাবির প্রতি সমর্থন জানানো হয়। মোহাম্মাদ আলীবাক এ ব্যাপারে ইরান সরকারের তীব্র প্রতিবাদের কথা চং পিউকে অবহিত করেন। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত গ্রেটার তুম্ব, লেসার তুম্ব ও আবু মূসা নামের তিনটি দ্বীপ ঐতিহাসিকভাবে ইরানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত বহু বছর ধরে এগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে।

দ্বীপ তিনটির ওপর ১৯২১ সালে তৎকালীন উপনিবেশবাদী ব্রিটিশ সরকার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর ব্রিটিশরা পারস্য উপসাগর ত্যাগ করার পরদিন ৩০ নভেম্বর ওই তিন দ্বীপের ওপর ইরান তার মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

সেদিন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত স্বাধীন কোনো দেশ ছিল না। দ্বীপ তিনটির ওপর ইরানের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়ার দু’দিন পর ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ঐতিহাসিক এ বাস্তবতা সত্ত্বেও বহু বছর যাবৎ আবুধাবি ওই দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে। 

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দ্বীপ তিনটির ইরানের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে রাশিয়া। এজন্য তেহরানে নিযুক্ত রুশ চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

সে সময় দ্বীপ আবু মূসা, গ্রেটার তুম্ব ও লেসার তুম্বের মালিকানা প্রশ্নে কয়েকটি আরব দেশ ও রাশিয়া যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। মরক্কোয় আরব-রাশিয়া সহযোগিতা ফোরামের ৬ষ্ঠ বৈঠক থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে দ্বীপগুলোর ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানা দাবি করা হয়।

সূত্র : পার্সটুডে, এএফপি


মন্তব্য