পালানোর আগে শিলাস্তি নয়, অন্য বান্ধবীর সঙ্গে রাত কাটান শাহীন!

শিলাস্তি
  © ফাইল ছবি

গত ১৩ মে ভারতের কলকাতায় গিয়ে নৃশংসভাবে খুন হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার। সে সময় তার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে গ্রেপ্তারের আতঙ্কে গত ২০ মে গুলশানের ফ্ল্যাট ছেড়ে বান্ধবীকে নিয়ে হোটেলে ওঠেন আনার হত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড শাহিন। এ সময় তার সঙ্গে গ্রেপ্তার বান্ধবী শিলাস্তি রহমান ছিলেন না। ছিলেন আরেক বান্ধবী চেলসি চেরী ওরফে আরিয়া। তাকে নিয়ে ঐ হোটেলে রাত কাটিয়ে পরদিন ভারত-নেপাল ও দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান শাহিন।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, এমপি আনার হত্যার সব পরিকল্পনা চুড়ান্ত করার পর গত ১০ মে ঢাকায় এসে নিজের গুলশানের ফ্লাটে ওঠেন শাহিন। এরই মধ্যে এমপি আনারের কলকাতায় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শাহিন আতঙ্কিত হয়ে নিজ ফ্লাট ছেড়ে গত ২০ মে মধ্যরাতে বান্ধবী চেলসি চেরী ওরফে আরিয়াকে নিয়ে রাজধানীর একটি হোটেলে উঠেন। রাজধানীর ঐ হোটেলটিতে রাত কাটানোর পর ২১ মে ভারত-নেপাল ও দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান শাহিন। আর বান্ধবী আরিয়া চলে যান তার বাসা রাজধানীর মধ্য বাড্ডায়। তিনি এর আগে শাহীনের সঙ্গে ভারতেও গিয়েছিলেন। আদালতের মাধ্যমে আরিয়ার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখার অনুমতি পেয়েছে ডিবি। আরিয়াকে এর আগে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে ডিবি।

ডিবির নজরদারিতে আছে মাস্টারমাইন্ড শাহিনের ঘনিষ্ঠ আরও ৭ জন, যারা আনার হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাদের সঙ্গে গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে একাধিকবার বৈঠক করেন শাহিন।

এদিকে রোববার (২৩ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, আনার হত্যা মামলার তদন্ত কাজে তাদের উপর কোনো চাপ নেই। তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি চাপ অনুভব করতাম তাহলে আমাদের এত অ্যাচিভমেন্ট হতো না এই মামলায়। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন কোনো চাপ নেই এই মামলার তদন্তকাজে। আমাদের প্রতি নির্দেশ হচ্ছে নিরপেক্ষভাবে মামলাটি তদন্ত করা। ডিবির চৌকশ টিম নিরপেক্ষভাবে এ মামলার তদন্তকাজ করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা রাতদিন পরিশ্রম করছে। আরো যে আসামি আছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনে এমপি আনারকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আখতারুজ্জামান শাহীনের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড হয় বলে জানা যায়। তার নির্দেশেই কসাই জিহাদসহ চার জন মিলে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে ওই আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।


মন্তব্য