আ. লীগকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানানো জামালপুরের সেই ডিসি ইমরানকে বদলি

ডিসি
  © সংগৃৃহীত

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী বিতর্কিত জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. ইমরান আহমেদকে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে বদলি করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় উপসচিব নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে জামালপুরের নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির উপ-পরিচালক (উপসচিব) মো. শফিউর রহমান।

গত মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনরায় নির্বাচিত করা আমাদের প্রত্যেকের অঙ্গীকার’ বলে বক্তব্য দেন জামালপুরের ডিসি ইমরান আহমেদ। তার এ বক্তব্য ঘিরে জেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ডিসি ইমরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক চিঠির বিষয়টি জানান।

নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে ডিসির বক্তব্য প্রসঙ্গে ওই চিঠিতে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পক্ষপাতহীন নিরপেক্ষ আচরণ করতে হয়। এটি সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট সব আইনের অর্থ ও অন্তর্নিহিত চেতনা। সংবিধানের ১২০ ও ১২৬ নং অনুচ্ছেদ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৫ ও ৯১ (গ) নং অনুচ্ছেদসহ আরও বিভিন্ন আইন ও ধারায় এ বিষয়টি সুস্পষ্ট। নির্বাচন বিষয়ে কমিশনের এখতিয়ার কেবল তফসিল ঘোষণার পর নয়, সব সময় বিদ্যমান থাকে।

চিঠিতে ইসি আরও জানায়, জেলা প্রশাসকরা সাধারণত রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নির্বাচনের সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন তারা। এ অবস্থায় সরকার, গণতন্ত্র, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর জনমানুষের আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে মো. ইমরান আহমেদকে ঘটনার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া, এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রকার দায়িত্ব দেওয়া থেকে বিরত রাখা সমীচীন হবে।

একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকতে সতর্কবার্তা দেওয়া প্রয়োজন বলে নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।


মন্তব্য